
একেক মানুষের শখ থাকে একেকরকম। ক্রিস গেইলের দেশ জ্যামাইকার সাবেক ক্রিকেটার রোহান চেম্বারসের শখ যেমন দেশ-বিদেশে ঘুরে বিভিন্ন ক্রিকেট স্টেডিয়াম দেখা। এরই মধ্যে বিশ্বের ১০৪টি টেস্ট ভেন্যু ঘুরে দেখে ফেলেছেন রোহান।
বিশ্ব ঘুরে স্টেডিয়াম দেখার এই শখ পূরণের মিশনে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন ৫৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেট ইতিহাসবিদ। ইংল্যান্ডে হওয়া ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ দিয়ে এই যাত্রা শুরু করেন রোহান। তার লক্ষ্য বিশ্বের সব টেস্ট ভেন্যু ঘুরে দেখা।
এই মিশন দেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার স্যার কার্টলি অ্যামব্রোস সম্প্রতি তাকে বলেছেন, ‘রোহান, আমার মনে হয় তুমি কিছুটা পাগল। তাই না? (হাসি)’ আরেক কিংবদন্তি পেসার মাইকেল হোল্ডিংও শুভকামনা জানিয়ে তাকে ভিডিওবার্তা পাঠিয়েছেন।

এসব স্টেডিয়াম ঘুরে দেখার নিয়মিত আপডেট জানানোর জন্য https://www.rccgt.com নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রামে পেইজও খুলে রেখেছেন রোহান। যেখানে নিয়মিত ছবি আপলোড দিতেও ভোলেন না আশির দশকের শেষ দিকে জ্যামাইকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কত্ব করা রোহান।
এমনকি এই ভ্রমণের সাক্ষী হিসেবে আরসিসিজিটি ডট কম rccgt নামে এক পাতার একটি ওয়েবসাইট খুলে রেখেছেন একসময় ক্যারিবিয়ান ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্রায়ান লারা, শিবনারায় চন্দরপলদের বিপক্ষে খেলা এই ক্রিকেটার।
ক্রিকেট মাঠ ঘুরে দেখার সফরে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড, ওয়েলস, আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, ক্যামেন আইল্যান্ড, বার্বাডোজ, শ্রীলঙ্কা, ডমিনিকা, সেইন্ট লুসিয়া, গ্রেনাডা, অ্যান্টিগা, সেইন্ট কিটস ভ্রমণ করেন রোহান।
২০২৫ সালে পাকিস্তান দিয়ে নতুন বছরের যাত্রা শুরু করেন ৫৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেট ইতিহাসবিদ। এরপর ত্রিনিদাদ, গায়ানা, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও ভারত সফর করেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সামনের সফরে বাংলাদেশেও দেখা যাবে রোহানকে।

সম্প্রতি ভারত সফরে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের সঙ্গে কথা বলেন জ্যামাইকার সাবেক এই ক্রিকেটার।
“বিশ্বের ১২৪টি (আসলে ১২৩) টেস্ট ভেন্যু রয়েছে। আমি এরই মধ্যে ১০৪টি ঘুরে দেখেছি।”
প্রতিটি ভেন্যুতে মাঠসংশ্লিষ্ট লোকদের সঙ্গে আলাপচারিতা করতে পছন্দ করেন রোহান। ওই মাঠের ইতিহাস, বিশেষ কোনো ঘটনা, রেকর্ড কিংবা বিশেষত্ব সম্পর্কে জেনে নিজের কাছে নোট রাখেন বর্তমানে ক্রিকেট সংগঠক ও আম্পায়ার হিসেবে কাজ করা রোহান।
“আমি সচরাচর মাঠকর্মী অথবা এমন লোকদের সঙ্গে কথা বলি, যারা আমাকে অজানা তথ্য জানাতে পারবে। যেগুলো অন্য কারও কাছ থেকে হয়তো শুনতে পারব না। আমি প্রায়ই মাঠকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করি। তাদের সঙ্গে সাধারণত কেউ কথা বলে না। তাই তারাও কথা বলতে আগ্রহী থাকে।”
এখন পর্যন্ত ঘুরে দেখা মাঠগুলোর মধ্যে রোহানের পছন্দের তালিকায় আছে এডিলেইড ওভাল, কেপ টাউনের নিউ ল্যান্ডস, চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়াম, সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড, লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভাল।
সব টেস্ট ভেন্যু ঘুরে দেখার পর বিশদ আকারে একটি বই লেখার বাসনা রয়েছে রোহানের।
“আমি শতভাগ নিশ্চিত নই যে, আমি আসলে এটিকে কীভাবে সাজাব। এই বিষয়ে একটি ওয়েবসাইট হতে পারে। যেখানে সবাই সবগুলো মাঠ সম্পর্কে জানতে পারবে। এছাড়া এই ভ্রমণ শেষ হওয়ার পর একটি বই লেখারও ইচ্ছা আছে।”
আপনার মতামত লিখুন :