• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চড়া দামে বিক্রি

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) উপজেলা প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এলাকায় স্থায়ী কোনো অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন না থাকায় এক শ্রেণির অসাধু খুচরা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বাজারগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন কার্যত ‘সোনার হরিণে’ পরিণত হয়েছে। চড়া দাম দিয়েও মিলছে না প্রয়োজনীয় জ্বালানি, ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার মোটরসাইকেল চালক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।

সরেজমিনে উপজেলার বসুরহাট বাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ছোট দোকানেই ‘তেল নেই’ বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ গোপনে পরিচিতদের কাছে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে লিটারপ্রতি ১০০-১২০ টাকা বেশি দিয়েও চাহিদামতো জ্বালানি না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে।

ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালকরা জানান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কোনো আধুনিক ফিলিং স্টেশন নেই। ফলে সাধারণ মানুষকে ড্রাম বা বোতলে ভরা খুচরা দোকানের তেলের ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে পাইকারি বাজার থেকে সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে খুচরা বিক্রেতারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। পেশাগত প্রয়োজনে যারা প্রতিদিন মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, তেলের অভাবে তাদের দৈনন্দিন কাজ ও জীবিকা নির্বাহ স্থবির হয়ে পড়েছে।

একজন ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এলাকায় কোনো পাম্প নেই, খুচরা দোকানই ভরসা। কিন্তু এখন গ্রাম থেকে পৌরসভা—সবখানে একই অবস্থা। তিনটি বাজার ঘুরেও এক লিটার অকটেন পাইনি। শেষে এক দোকান থেকে ২৩০ টাকা দিয়ে এক লিটার নিতে হয়েছে, তাও মিশ্রিত কি না সন্দেহ আছে। এভাবে চললে আমাদের পথে বসতে হবে।”

এদিকে, তদারকি না থাকায় খুচরা বাজারে তেলের সঙ্গে ভেজাল মেশানোর আশঙ্কাও বাড়ছে, যা যানবাহনের ইঞ্জিনের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া জনাকীর্ণ এলাকায় উন্মুক্ত স্থানে ড্রাম ও বোতলে তেল বিক্রির ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, কোম্পানীগঞ্জে একটি সরকারি অনুমোদিত স্থায়ী ফিলিং স্টেশন স্থাপন এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে বর্তমান অরাজকতা ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং কেউ অবৈধভাবে মজুত বা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর