• ঢাকা
  • বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, উচ্ছ্বসিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা

ইউরোপের দেশগুলোতে যখন অভিবাসন নীতি নিয়ে কড়াকড়ি বাড়ছে, ঠিক তখন এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক সিদ্ধান্ত নিল স্পেন সরকার। দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অনথিভুক্ত বা অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার একটি বিশেষ ডিক্রি অনুমোদন করেছে প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে স্পেনে বসবাসরত কয়েক হাজার বাংলাদেশি অভিবাসীরও বৈধ হওয়ার পথ সুগম হলো।

স্পেন সরকারের এই ঘোষণার পর বার্সেলোনা, মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নথিপত্রহীন অবস্থায় থাকা বাংলাদেশিরা এখন বৈধভাবে কাজের সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা স্পেন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলছেন, এটি কেবল অভিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন করবে না, বরং স্পেনের অর্থনীতিতেও প্রবাসীদের অবদানকে আরও জোরালো করবে।

ইউরোপ কিংবা আমেরিকা। বিশ্বজুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পশ্চিমা দেশগুলো। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালির মতো দেশগুলো তাদের অভিবাসন নীতি আরও কড়াকড়ি করে চলেছে। সেখানে একদমই উল্টো পথে হাটছে স্পেন। দীর্ঘ দিনের অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে একটি পরিকল্পনার অনুমোদন দিলো পেদ্রো সরকার।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের অনুমোদনে প্রায় পাঁচ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেয়ার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য বসবাসের অনুমতি দেয়া হবে। পরবর্তীতে তা স্থায়ী ব্যবস্থায় রূপ নিতে পারে।

এই সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং পরিচ্ছন্ন অপরাধমুক্ত রেকর্ড দেখাতে হবে। এপ্রিলের ১৬ তারিখ থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অনুমোদন পেলে তারা কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন।

সরকার বলছে, এই অভিবাসীরাই স্পেনের অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলা এবং শ্রমঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেয়া জরুরি। অতীতে নিজের নাগরিকদের বিদেশে কাজের জন্য পাড়ি জমানোর ইতিহাসও এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন সানচেজ।

তবে দেশটির বিরোধী দল পিপলস পার্টি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলছে, সরকারের এমন উদ্যোগ অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন করে আরও মানুষের আগমন বাড়াতে পারে। যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ কিছু মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপজুড়ে কড়াকড়ির প্রবণতার বিপরীতে স্পেনের এই পদক্ষেপ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর