• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

সোনাইমুড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে ঘিরে উত্তেজনা, আতঙ্কে বৃদ্ধার মৃত্যুর দাবি

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :
সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজার সংলগ্ন বেগমগঞ্জ–সোনাইমুড়ী–রামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত “এসো গড়ি উন্নয়ন সংস্থা”র প্রধান কার্যালয় ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের গবেষণা ও তথ্য বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি দখলসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সওজের মাত্র ৩.৬৮ শতাংশ জমির লিজ নিলেও বাস্তবে এর চেয়ে অনেক বেশি জায়গা টিনের বেড়া দিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ব্যবসা করে আসা নিম্ন আয়ের কয়েকজন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এক প্রতিবন্ধী স্যানিটারি ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই ব্যবসায়ীকে ঘিরে হুমকি-ধমকির ঘটনায় তার বৃদ্ধা মা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল আউয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে দাবি করেন, তিনি সওজ থেকে বৈধভাবে লিজ নেওয়া জমি একটি চক্র দখল করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি এবং মৃত বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগছিলেন।

কিন্তু সরেজমিন অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তার বক্তব্যের সঙ্গে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সওজের নির্ধারিত সীমার বাইরে বিস্তৃত জমি টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সেখানে অন্যদের ব্যবসা পরিচালনায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ভিডিওতে উপস্থাপিত জমির নকশা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নকশাটিতে সওজ বিভাগের কোনো কর্মকর্তার সিল বা স্বাক্ষর নেই। অথচ সিল-স্বাক্ষরযুক্ত অফিসিয়াল নকশার সঙ্গে প্রদর্শিত নকশার উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
অন্যদিকে, নিহত বৃদ্ধার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, তিনি হৃদরোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। যদিও পরিবার দাবি করছে, হুমকির কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপই তার মৃত্যুর কারণ।

সওজ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর আবদুল আউয়াল অব্যবহৃত জমির ওপর দিয়ে যাতায়াতের জন্য একটি প্রবেশপথ নির্মাণের লক্ষ্যে ৩.৬৮ শতাংশ জমি ইজারা নেওয়ার আবেদন করেন। তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার মত দেন, একটি মাত্র বসতবাড়ীর জন্য এমন প্রবেশপথের প্রয়োজন নেই। তবুও পরবর্তীতে তিনি লিজ পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, লিজের সীমা অতিক্রম করে অতিরিক্ত জমি দখল এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের চেষ্টা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে সড়ক ও জনপথ (সওজ), নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর