
সিনিয়র প্রতিবেদক : নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইজদীতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শান্তনু কুমার দাশ। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুন নাহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আত্মোপলব্ধি ও সামাজিক সচেতনতাই নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, অনেক অভিভাবক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে সন্তানদের অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে দিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের নিবন্ধনও করা হয় না। ফলে পরবর্তীতে জটিলতা তৈরি হলে আইনগত প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজী, ইমাম, পুরোহিত, নোটারি পাবলিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিয়ে সম্পন্ন করার আগে জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে বর-কনের বয়স যাচাই নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নারী ও শিশুর ওপর শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন নির্যাতন বন্ধে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। গৃহকর্মী ও শিশুদের প্রতি নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনক। পাশাপাশি নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিংয়ের প্রবণতা বেড়েছে উল্লেখ করে নিরাপদ সাইবার পরিবেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা সমাজের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
অনেক ক্ষেত্রে নারীরা পরিবারেই বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে নারী-পুরুষ উভয়ের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। পরিবার থেকেই ছেলে-মেয়ে উভয়কে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিতে হবে, যাতে তারা সহিংসতা ও অপরাধ থেকে দূরে থাকে।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (চাটখিল সার্কেল) মনীষ দাশ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. পপি রানী কুন্ডু, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব, ইউএনএফপিএর ফিল্ড অফিসার সাদিয়া শামরিন হৃদি, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মবিন মিয়া।
এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নারী অধিকারকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আপনার মতামত লিখুন :