
বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, নোবিপ্রবি :: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে কাজী নজরুল ইসলামের পদচারণা ছিল না। অসাম্প্রদায়িক চেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি সার্বজনীন সাহিত্যিকের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁর সাহিত্য আমাদের নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করে দেয় এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নজরুল বর্ষ ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরুলের গান, কবিতা ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ আরও প্রসারিত হচ্ছে। এ সময় তিনি নজরুল বর্ষের সফলতা কামনা করেন এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।
সেমিনারে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলামকে সাধারণত বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তাঁর সৃষ্টিশীলতার পরিসর আরও বিস্তৃত। তাঁকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে তাঁর সাহিত্যভাবনা, সৃজনশীলতার স্বাতন্ত্র্য, ভাষার ব্যবহার ও সাহিত্যের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নজরুল প্রচলিত সাহিত্যধারার বাইরে গিয়ে বাংলা সাহিত্যে নতুন ভাষা, প্রকাশভঙ্গি ও বিষয়বস্তুর সংযোজন ঘটিয়েছেন। তাঁর কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ ও সাংবাদিকতায় বৈচিত্র্যের যে প্রকাশ ঘটেছে, তা বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও কর্তৃত্বের প্রশ্নে বর্তমান সময়েও নজরুলের সাহিত্য আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়।
নজরুল বর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক ও নজরুল গবেষক ড. আবুহেনা আবদুল আউয়াল। স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. শিবলুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :