• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৪ জুন, ২০২৬

শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নুশরাত রুমু, সদর :
নোয়াখালীর শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রাখা শিক্ষাবিদ ও সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম ছালেহ আহমেদের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৪ জুন।
শিক্ষা, সমাজসেবা ও সমবায় আন্দোলনে তাঁর অবদান আজও নোয়াখালীবাসীর কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে আছে।

অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ নোয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮২ সালে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় সোনাপুর কলেজ, যা পরবর্তীতে ডিগ্রি কলেজ এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীত হয়েছে। মাত্র ১৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানটি।

নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির সহযোগিতায় তৎকালীন সোনাপুর কলেজ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন। এর আগে তিনি খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও আদর্শিক কারণে শিক্ষকতাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নেন।
শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান শুধু সোনাপুর ডিগ্রি কলেজেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি নোয়াখালী নৈশ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সোনাপুর কলেজিয়েট স্কুলেরও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) নোয়াখালী জেলা শাখার আজীবন সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষাক্ষেত্রের বাইরে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। বাংলাদেশ রোভার স্কাউটসের আঞ্চলিক কমিশনার, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩১৫-বি এর জোন চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক ও জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সমবায় খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রপতির পদক লাভ করেন।

এছাড়া তিনি সন্ধানী, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য ছিলেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত অধ্যক্ষ ছালেহ আহমেদ ২০০১ সালের ৪ জুন ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে যান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আজও শিক্ষা বিস্তারে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর সন্তান আহম্মদ আমান মাসুদ (বিপ্লব) মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর