
নুশরাত রুমু, সিনিয়র প্রতিবেদক : মাইজদীর ব্যস্ত হাসপাতাল সড়কের সংস্কারকাজের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার সংস্কারের পরও সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। সর্বশেষ গত ৩ জুলাই সংস্কার করা অংশের পিচ পরদিনই উঠে যাওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পথচারী, রোগী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে। তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়া হাসপাতাল সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৫০ মিটার। সড়কটির দুই পাশে শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩১ টাকা ব্যয়ে মেসার্স আব্দুল খালেক ট্রেডার্স সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।
তবে নির্মাণের কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হতে থাকে। এ অবস্থায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই প্রতিষ্ঠান প্রায় ২১ লাখ ২৯ হাজার ৪২১ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ পরিচালনা করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতেই নিম্নমানের কাজ হওয়া সত্ত্বেও একই প্রতিষ্ঠানকে আবার সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
একই অর্থবছরে সড়কটির অবস্থা আবারও নাজুক হয়ে পড়লে প্রায় ২০ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ টাকা ব্যয়ে মেসার্স রহিম অ্যান্ড সন্স কার্পেটিংয়ের কাজ করে। কিন্তু একই বছরে দুই দফা সংস্কারের পরও বছর না ঘুরতেই সড়কটি আবারও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যয়ে শারমিন ডেইরি অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ আংশিক সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে।
চলতি অর্থবছরে প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। কাজটি তিনটি পৃথক প্যাকেজে ভাগ করে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, মেসার্স রুবেল ট্রেডিং করপোরেশন এবং মেসার্স মারিয়া ট্রেডার্সকে দেওয়া হয়। এর মধ্যে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স প্রায় ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৫ টাকা ব্যয়ে ১১৬ মিটার ইউনি-ব্লক এবং ২০৪ মিটার সিলকোটের কাজের দায়িত্ব পায়।
তবে চলমান তিনটি প্যাকেজের কাজ নিয়েই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স-এর করা সিলকোটের কাজে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ৩ জুলাই কাজ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পরই নতুন পিচ উঠে যেতে শুরু করে।
মাইজদী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা রুবেল বলেন, “প্রতিবছর একই সড়ক সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এই পথ দিয়ে হাসপাতালে যাতায়াত করেন। অথচ কাজের মান নিয়ে যেন কারও কোনো জবাবদিহি নেই।”
চিকিৎসার জন্য হাতিয়া থেকে মাইজদীতে আসা আব্দুল হাই বলেন, “উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাদের নিয়মিত মাইজদীতে আসতে হয়। কিন্তু হাসপাতাল সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রায় সারা বছরই সংস্কারকাজ দেখি, কিন্তু টেকসই কোনো উন্নয়ন চোখে পড়ে না।”
এ বিষয়ে নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বেলাল আহম্মেদ খান বলেন, সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে ত্রুটি দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চিঠির জবাবে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী মো. হানিফ বলেন, কাজটি টেন্ডারের মাধ্যমে পেলেও বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্য একটি পক্ষকে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় সংস্কার করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :