প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৪ নভেম্বর, ২০২৪

সোনাইমুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অস্বাস্থ্যকর টয়লেট, বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

Oplus_131072

উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ী : টয়লেটে হ্যান্ডওয়াশ, সাবান কিংবা টিস্যু নেই। স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে জমে আছে ময়লা পানি। কমডের ঢাকনা খুলতেই দৃশ্যমান মলের উপস্থিতি। একটি বেসিনেও পানি-সাবান নেই। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এটাই বাস্তব চিত্র। হাসপাতালে পরিচ্ছন্ন কর্মী থাকলেও কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন রোগী ও দর্শনার্থীরা। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। নতুন ভবনের বছর না পেরতেই বেহাল দশা টয়লেটগুলোর।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী-শিশু ও পুরুষ তিনটি ওয়ার্ডের প্রতিটি টয়লেটের দুরবস্থা। অপরিচ্ছন্নতার কারনে বেডে শুয়ে থাকলেও মলের দুর্গন্ধ নাকে আসে রোগীদের। টয়লেটের সামনে পাপোশ না থাকায় টয়লেট ব্যবহার শেষে নোংরা পানি মাড়িয়েই ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। ফলে পায়ে পায়ে ছড়াচ্ছে জীবানু। বেসিনে পানি ও সাবানের ব্যবস্থা না থাকায় শৌচাকার্য সম্পাদন শেষে রোগী ও স্বজনদের পরিচ্ছন্নতার কোন ব্যবস্থা নেই। নোংরা পরিবেশ স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের জীবন।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি ওয়ার্ডে রয়েছে ছয়টি টয়লেট, ছয়টি বেসিন ও তিনটি গোসলখানা। প্রতি ওয়ার্ডের একটি প্যান ও একটি কমোড টয়লেট রয়েছে। সবগুলো টয়লেটেই মলের উপস্থিতি দৃশ্যমান। প্যান সিস্টেমের টয়লেট গুলোতে ফ্লাসারের ব্যবস্থা নেই। আর কমোড টয়লেট গুলোর ফ্লাস থাকলেও কাজ করেনা। একটি টয়লেটেও সাবান ও টিস্যুর চিন্হ নেই। তিনটি ওয়ার্ডের ছয়টি বেসিনের একটি ট্যাপেও পানি ও সাবান নেই। এর মধ্যে মহিলা ওয়ার্ডের বেসিন স্যালাইনের পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে শিশু ও পুরুষ ওয়ার্ডের চারটি বেসিনের মধ্যে দুইটির হদিস নেই। এছাড়া প্রতিটি টয়লেটের সামনে রাখা ময়লার ড্রাম গুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে, উড়ছে মাছি ফলে ছড়াচ্ছে জীবানু। দুর্গন্ধ বাইরে বের করার জন্য নেই অ্যাডজাস্টার ফ্যানের ব্যবস্থা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েকজন রোগী অভিযোগ করে জানান, হাসপাতালের টয়লেটগুলোর অবস্থা একেবারেই অস্বাস্থ্যকর। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যেনতেন ভাবে পরিস্কার করে চলে যায়। বেডে শুয়ে থাকলেও দুর্গন্ধ নাকে আসে। পর্যাপ্ত পানি ও সাবানের ব্যবস্থা নেই। টয়লেট শেষে হাত পরিস্কারের ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে এসে বাধ্য হয়ে নোংরা টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের।

মহিলা ওয়ার্ডের ১৩ নাম্বার বেডের রোগীর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি জানান গত চার দিন থেকে গাইনি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সেবার মান যেমন তেমন কিন্তু টয়লেটের অবস্থা একেবারে খারাপ। দুইটা বেসিনের একটাতেও পানি নেই। পায়খানায় হাত ধোয়ার সাবান নেই। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের এগুলোর বিষয়ে বললে তারা বকাবকি করে।

পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই ওয়ার্ডের একটি টয়লেটের ফ্লোরে পানি জমে থাকে। অন্য আরেকটি টয়লেটের ফ্লাস নষ্ট, ময়লাতে প্যান ভরে আছে। দুইট বেসিনের একটাতে ট্যাপ কল নেই, অন্য বেসিনে ট্যাপ থাকলেও পানি নেই। টয়লেট শেষে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা দুই বেলায় আসলেও টয়লেট পরিস্কার হয়না। অসুস্থ হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছি এখন দেখটি নোংরা-অস্বাস্থ্যকর টয়লেটের কারনে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরানো ও নতুন বিল্ডিং ঘুরে দেখা যায় পানির ট্যাংক শেওলা পরে আর ধুলায় বিবর্ন হয়েছে। পুরানো ও নতুন বিল্ডিংয়ের মাঝে পলিথিন, ঔষধ বর্জ্যসহ জমে আছে ময়লার স্তূপ। পুরুষ মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড সহ সিটের নিচেও রয়েছে ময়লা। নোংরা পানি জমে ডেঙ্গু উৎপাদনের কারখানা হয়ে আছে ড্রেনগুলো। ২০২৩ সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য লক্ষ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পরেও নোংরা হয়ে আছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

সোনাইমুড়ী উপজেলায় বজরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ৪ জন সুইপারের পদের বিপরীতে ২ জনই কর্মরত রয়েছেন। অতিরিক্ত দুই জনকে বিশেষভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জন সুইপার সকালে আর ২ জন রাতে কাজ করে বলে জানা যায়।

হাসপাতালে আসা দর্শনার্থী মোঃ ইমাম হোসেন বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাত্র এক বছরও হয় নাই নতুন একটি বিল্ডিং হয়েছে। অথচ সিঁড়ি দিয়ে হাসপাতালের উপরে উঠতেই দুর্গন্ধ নাকে লাগে। হাসপাতালের করিডোরের পাশে দিনের পর দিন ময়লার স্তূপ জমে থাকলেও সেগুলো পরিষ্কার করা হয় না। আর বাথরুমে ঢুকলেতো বমি চলে আসে। ময়লা আর দুর্গন্ধে হাসপাতালের রোগী সহ রোগীদের স্বজনদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এদিকে নজর না দিয়ে ভুয়া রোগী সাজিয়ে হাসপাতাল লুটপাট করছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সুলতানা বেগম বলেন, টয়লেটের ‘ময়লার স্তূপ থেকে আসা দুর্গন্ধ সহ্য করার মতো না। এই দুর্গন্ধ আর টয়লেটের দূর্গন্ধ অনেক রোগী আরও অসুস্থ হয়ে পরেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফ সবাই এটা জানেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

রোগীদের এসকল সমস্যার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইসরাত জাহানের সাথে কথা বলতে গেলে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়া যায়না। পরে কয়েকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর