
উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ী ; সোনাইমুড়ীতে ভারতীয় নাগরিকের নামে বাংলাদেশী জন্মনিবন্ধন তৈরী করে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। যে চক্রের সাথে যুক্ত রয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, দলিল লেখক, উপজেলা ভূমি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার সহ বেশ কয়েকজন। আর এভাবেই জালিয়াতির মাধ্যমে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। জানা যায়, স্বাধীনতার ৩০ বছর পূর্বে ভারতে চলে যান আবদুল হাকিম। তার দুই ছেলে আবুল কালাম ও আবু তাহের ভারতে জন্মগ্রহণ করে সেখানেই বসবাস করে। তবে বাংলাদেশে রেখে যাওয়া সম্পত্তি স্বজনেরা ১৯৯৬ সালে আবদুল হাকিমের দুই ছেলের নামে বিএস খতিয়ান করেন। পরে শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি সেই
জমি জালিয়াতি চক্রের সহায়তায় অপ্রত্যাহার যোগ্য (পাওয়ার অফ এটর্নি) দলিল তৈরী করে আত্মসাত করেন। ভারতীয় নাগরিক আবুল কালাম বাংলাদেশে না আসলেও তার নামেই ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও অন্যের ছবি দেখিয়ে জমি হস্তান্তরের দলিলটি তৈরী করা হয়েছে। তথ্য বলছে, সোনাইমুড়ীর পোরকরা গ্রামের মৃত ইসলাম মুন্সির ছেলে আব্দুল হাকিম স্বাধীনতা যুদ্ধের ৩০ বছর পূর্বে ভারতে চলে যান। ১৯৮৫ সালে তার ছেলে আবু তাহেরকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। এখানেই তার মৃত্যুর পর তার অপর ছেলে আবুল কালাম এসে আবু তাহেরকে নিয়ে পূনরায় ভারতে চলে যায়। এর পর থেকে ওই
পরিবারের খোঁজ-খবর পায়নি স্বজনরা। সোনাইমুড়ীর পোরকরা মৌজার ১৪৬ ও ১৪৮ বিএস খতিয়ানসহ কয়েক দাগে ৭১ শতাংশ সম্পত্তি মৃত আবদুল হাকিমের ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হন তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এই সস্পত্তিগুলো তাদের চাচাতো-জেঠাতো ভাইসহ অন্যান্য স্বজনেরা ভোগদখল করে আসছেন। গত ৪ নভেম্বর তার দূরসম্পর্কের আত্মীয় পোরকরা গ্রামের মৃত রুহুল আমীনের ছেলে শাহাজান ভুয়া কাগজ তৈরী করে আবুল কালাম নামে ভুয়া দাতা সাজিয়ে সোনাইমুড়ী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ৫৩৫৩ নং দলিল মূলে নাল-বাড়ি ও ডোবার সাড়ে ২২ শতাংশ জমি দলিল করে নেয়। দলিল দাতা আবুল কালামের চাচাতো ভাই শামসুদ্দিন, মোঃ হানিফ ও নূর আলম অভিযোগ করে প্রতিবেদককে জানায়,
দলিল রেজিস্ট্রি করার খবর শুনে তারা সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান। সেই দলিলে দাতার ছবির সাথে তার চাচাতো ভাই আবুল কালামের মিল নাই। এছাড়া আবুল কালাম ভারতীয় নাগরিক হলেও বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে জন্মনিবন্ধন দেখানো হয়েছে। আবুল কালামের সম্পত্তি পোরকরা মৌজার হলেও জালিয়াতির মাধ্যমে তার জন্মনিবন্ধন তৈরী করা হয়েছে নদনা থেকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর সোনাইমুড়ীর সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে দলিল নং ৫৩৫৩/২৪ স্বাক্ষর করেন সাব-রেজিষ্টার আনসার আহম্মেদ। দলিল লেখক ছিলেন জামাল ভূইয়া। সেখানে জমি দাতা আবুল কালামের জাতীয় নিবন্ধন নাম্বার দেখানো হয়েছে ১৯৬২৭৫১৮৩৭৩১২৯২৫৬। অনলাইনে যাচাই করে দেখা যায়
জন্মনিবন্ধনটি নদনা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গত মাসের ২ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা হয়েছে। তবে আবুল কালামের বাবা ছিলেন চাষিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাছাড়া তার সম্পত্তিও পোরকরা মৌজার। দলিল গ্রহীতা শাহজাহান মুঠোফোনে জানান, দলিল দাতা আবুল কালাম জন্ম থেকেই পরিবার নিয়ে ভারতে থাকেন। দেশে আসেনা। এলাকার কেউ তাকে চেনেনা। গত ৪ নভেম্বর সে অবৈধ পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসে জমি রেজিষ্ট্রি করে চলে যান। সোনাইমুড়ী সাব-রেজিষ্টার আনসার আহম্মেদ জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে রয়েছেন। আর ৫৩৫৩/২৪ নং দলিলের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এছাড়া ভারতীয় ব্যক্তি কিভাবে নদনা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন পেলো সে বিষয় জানতে পরিষদের সচিবের সাথে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :