
মোহাম্মদ হানিফ, সোনাইমুড়ী : জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলায় রগ কেটে পুরোহিতকে হত্যার হুমকির দুই মাসের মাথায় এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারায়ণ চন্দ্র গুহ।
নারায়ণ চন্দ্র গুহ জানান, তিনি উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের মৃত প্রমোদ রঞ্জন গুহের ছেলে। জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় তারা নিজেদের পক্ষে আদালতের রায় পেলেও নতুন করে তাদের জমি দখল করছে একটি ভূমিদস্যুচক্র। এই বিষয়ে তিনি ১৩ জনকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনাইমুড়ীর ৩৭নং কুমার ঘরিয়া মৌজার সাবেক ১৯৪ হালে ৮৮৪নং দাগের বাড়ির ১০০ শতাংশ সম্পত্তির পৈতৃকসূত্রে মালিক নারায়ণ চন্দ্র গুহ। ২৯ জানুয়ারি দুপুর ২টার দিকে মৃত সুলতান আহম্মেদের ছেলে মো. হেলাল, সুমন, সাদ্দাম, মহাসিন, মোমিন গংরা ওই জমিতে পাকঘর ও টয়লেট নির্মাণ করে দখল করে।
এর আগে ওই জমি নিয়ে বিভেদ হওয়ায় নারায়ণ চন্দ্র গুহ বাদী হয়ে জেলার বিজ্ঞ সদর অতিরিক্ত সহকারী আদালতে দেওয়ানী নং-৩০৩/২০০৬ মামলা দায়ের করেন। মামলায় আদালত বাদীর কাগজপত্র পর্যালোচনা করে রায় প্রদান করেন। নিজেদের পক্ষে রায় না পেয়ে হেলাল গংরা জোরপূর্বক ওই জমি দখল করে নেয়।
নায়ায়ণ চন্দ্র গুহ অভিযোগ করে বলেন, এই সম্পত্তি তাদের পূর্বপুরুষদের। স্থানীয় ভূমিদস্যুরা ভুয়া কাগজ তৈরী করে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দখল করে নেয়। এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে আলাদতে মামলা করলে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু ৫ আগষ্টের পর দখলচক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। হেলাল গংরা তাদের সম্পত্তিতে পাকাঘর ও টয়লেট নির্মাণ করে দখল করে নিয়েছে। বাধা দিতে গেলে ভূমিদস্যু চক্রের সদস্যরা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দেয়। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
কুমার ঘড়িয়া গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ জানান, সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে হেলাল গংরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা অব্যাহত রেখেছে। তাদের এলাকা ছাড়া করতে পাঁয়তারা করছে। আদালতে মামলার রায় ও উচ্ছেদের মামলা চলমান থাকলেও তারা দখল অব্যাহত রেখেছে। তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
পাকাঘর নির্মাণকারী আব্দুল রাজ্জাক জানান, এই সম্পত্তি হিন্দু সস্প্রদায়ের এটা সত্য। তবে তারা এই সম্পত্তি খরিদ সূত্রে মালিক হয়েছেন।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, হিন্দু সস্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের বিষয়ে ১৩ জনকে বিবাদি করে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।
আপনার মতামত লিখুন :