প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

সুবর্ণচরে পরিকল্পিত ভাবে বন্ধুদের চোর সাজিয়ে রাতভর নির্যাতন

উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর ; জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় পরিকল্পিত ভাবে পাওনা টাকা দিবে বলে চোর সাজিয়ে রাতভর আটক রেখে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় আটককৃতদের ২টি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।পরে চর জব্বর থানা পুলিশ গিয়ে আটককৃতদের উদ্ধার করে আনে। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারী) রাত ১টার সময় উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড শাহীন মার্কেট সংলগ্ন স্থানে মাটি বহনের টাকা দিবে বলে গাড়ির ড্রাইবারদের কল দিয়ে জায়গায় নিয়ে পরবর্তীতে চোর সাজিয়ে ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে তাদের আটক করে এবং সারারাত ধরে নির্যাতন করে।পরবর্তীতে আটককৃতদের ২টি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।এসময় মারধরের শিকার মাসুদ (২৭) সাদ্দাম(৩২) সাহাবুদ্দিন(২৮) কে সারারাত ঐ জায়গাতে আটক করে রাখা হয়।

সকালে ৯৯৯ নাম্বারে কল করা হলে, দুপুর ১২টার দিকে চর জব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে এসআই আশিস আটক কৃতদের উদ্ধার করে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শী মোহর আলী বলেন,আমার বাড়ির পাশে স্কাবেটার মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হয়, মাটি বহনের সময় তারা আমার বাড়ির সামনের রাস্তা নষ্ট করে ফেলে।কথা ছিল,পরে তারা আমার রাস্তা ঠিক করে দেয়ার কথা ছিল কিন্তু রাত ১টার দিকে কে বা কারা মেশিন নিয়ে যেতে আসলে আমি মেশিনের মালিক কে কল করি।পরবর্তীতে সে এসে এদের সাথে তর্কাতর্কি শুরু একপর্যায়ে সে লোকজন দিয়ে এদের মারধর করায় এবং ২টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এবিষয়ে নির্যাতনের শিকার মো. মাসুদ জানান, রাত ৮টার দিকে আমাদের একজন ড্রাইবারকে সুবর্ণচর এসিল্যান্ড স্যার গাড়িসহ জব্দ করে একটি মামলা দেয় এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে সাজাভোগের শাস্তি দেয়।

আমরা বিষয়টি মাটি কাটার কন্ট্রাক্টর অভিযুক্ত হেদায়েত উল্যাহ কে জানালে সে আমাদের পাওনাকৃত  টাকা দেয়ার আশ্বাস দেয় কিন্তু পরবর্তীকালে সে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ করে দিলে আমরা তাকে না পেয়ে মেশিনের কাছে যাই।তখন সে তার পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে আমাদের কে তার লোকজন দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং বাঁশ, কাঠ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ হামলা করে, এতে আমাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এসময় তারা আমাদের ব্যবহৃত মোবাইল সেটগুলো নিয়ে যায় এবং আমাদের ব্যবহৃত ২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। সকাল বেলা খবর পেয়ে, আমাদের পরিবারের লোকজন ৯৯৯ নাম্বারে কল করলে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।অভিযুক্ত হেদায়েত এর পূর্বে ও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতো এবং অনেকের টাকা পয়সা মেরে দিয়েছিল।

এ বিষয়ে চর জব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো.শাহিন মিয়া বলেন, এ বিষয়ে ৯৯৯ নাম্বার থেকে কল পেয়ে আমি সংগঠিত স্থানে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসি এবং স্কাবেটর মেশিনটি আটক করে নিয়ে আসা হয়।   নির্যাতিতদের পক্ষ থেকে  একটি অভিযোগ রুজু করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকরে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর