
মোহাম্মদ হানিফ, সোনাইমুড়ী : সাড়ে ১৭ বছর পর ২১শে ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সোনাইমুড়ীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে উপজেলা বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, মিছিল, আলোচনা সভা ও ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সকালে ডাক বাংলো উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। ফুল দেওয়া শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ২১শে ফেব্রুয়ারীর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন দলীয় নেতারা।
এসময় পৌর বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক মেয়র মোতাহের হোসেন মানিক বলেন, “দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছর পর আমরা এই সোনাইমুড়ী কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে সমর্থ হয়েছি। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পরে পূর্ব বাংলা এবং পশ্চিম বাংলা হয়ে যায়। অতঃপর আমরা পূর্ব বাংলা থেকে পূর্ব পাকিস্তান হয়ে যাই। এই জাতির ইতিহাসে ৫২, ৭১, ৯০, ২৪ একেকটি মাইলস্টোন। ২০২৪ সালে মানুষ মুক্ত হয়েছে। তবে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের প্রতিবেশী রাস্ট্র ও পতিত স্বৈরাচারের দোষরেরা এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জাতীয়তাবাদী দল যেন ক্ষমতায় না আসতে পারে এজন্য দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে। তবে কোন ষড়যন্ত্র চলবে না নির্বাচন দিতেই হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “জনগণের প্রতিনিধি ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে সিদ্ধান্ত নিবে কি সংস্কার করবে, কি করবেনা। আপনি কে সংস্কার করার? আপনি সংস্কার প্রস্তাব করে যান। সংস্কার প্রস্তাবের পরে নির্বাচিত সরকার পূর্ন সংস্কার দিতে পারে, আংশিক দিতে পারে, আবার নতুন করেও সংস্কার দিতে পারে। সুতরাং আগেভাগে নির্বাচন দিন। অতিসত্বর নির্বাচন দিন। ২৫ এর একুশে ফেব্রুয়ারিতে এটাই হবে জাতীয়তাবাদী জনতার শপথ।
উপজেলা বিএনপি যুগ্ন আহবায়ক মাসুদুল আলম ফরহাদ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক দিদার হোসেন। তিনি বক্তব্যে বলেন,” ইউনুস সাহেব আপনার উদ্দেশ্যে বলবো, আপনি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করুন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। সেই নির্বাচনে জনগণ যাকে রায় দিবে আমরা তাকে মেনে নিবো। অবৈধ ভাব আপনাকে আমরা ক্ষমতায় থাকতে দেবো না।”
এসময় উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক কামাল, পৌর বিএনপি’র সদস্য সচিব সৈয়দ রেজায়া রাব্বি মাহবুব, সোনাইমুড়ী উপজেলা জিয়া প্রজন্ম দলের সভাপতি মাসুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহম্মদ সহ যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :