প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০২৫

সু্বর্ণচরে তিন গ্রামের ৮ বছর ধরে জ্বলেনি বিদ্যুৎতের আলো নিরবে দাঁড়িয়ে আছে খুঁটি

উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর : দেশের বিভিন্ন স্থানে কমবেশি বিদ্যুৎতের আলো পৌঁছালে ও সুবর্ণচর উপজেলার ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের তিন টি ওয়ার্ডের বেশিরভাগ অংশে বিদ্যুতের আলো জ্বলেনি দীর্ঘ ৮বছরের ও বেশি সময় ধরে। এর মধ্যে ইউনিয়নটির ৭নং ওয়ার্ডের দক্ষিন এবং ৮নং ও ৯নং ওয়ার্ডের প্রায় এক হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।দীর্ঘ ৮ বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জানালে ও কোনো রকম সুরাহা হয়নি এই তিন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানান যায়, তৎকালীন ২০১৭ সালে ইন্জিনিয়ারের গাফলতির কারনে বন বিভাগের রোপিত গাছের উপরে খুটি লাগানো হয়। যার কারণে লাইন চালু করার আগে গাছ বড় হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে হলে বন বিভাগের বেশির ভাগ গাছ কেটে ফেলতে হবে। যার কারণে তারা বাধ্য হয়ে মামলা করে।বিষয়টি ঠিকাদার জানলে লাইন চালু না করেই আ.লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে আঁতাত করে পালিয়ে যায়। আর এই কারণে এটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।

তাছাড়া গত ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি আশ্বাস দিয়েছেন পছন্দের প্রার্থীকে ভোটে জয় করলে তাদের সর্বপ্রথম কাজ হবে এই এলাকার ভোটারদের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা কিন্তু জয়ী হয়েও কোনো রকম কাজ করেন নি তারা।

এর পর বিগত তিন বছর কেটে গেলে গত বছর ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ১ সাপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর করার ঘোষণা দেন।তার ঘোষণা সময় ঐ সমাবেশে উপস্থিত সুবর্ণচর উপজেলা বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান দীপক।তিনি এমপি একরাম থেকে ১০ দিনের সময় নেন। তার ঘোষণার পর আগস্টের ১ম সাপ্তাহে মাঠে আসে বিদ্যুৎ বিভাগের লোক জন। কিন্তু তাদের ও আত্মবিশ্বাস ছিলো লাইন এটি চালু হবে।তারা নিজেদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মাঠে মাঠে লাইনের কোথায় ঝামেলা রয়েছে তা পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন স্থানে দুর্বৃত্তরা লাইনের পিলার থেকে তার সহ বিভিন্ন জিনিস পত্র চুরি করে নিয়ে যায়।যেগুলো বিদ্যুৎ বিভাগের লোক পুনোরায় আবার লাগিয়ে কোনো রকম লাইন চালু করার প্রস্তুতি নেন। এর পর লাইনের পাশে গাছ কাটার জন্য লোক জন আসলে বন বিভাগ বাধা দেন। তারা জানান তাদের থেকে গাছ কাটার জন্য কেউই অনুমতি নেন নাই। যার কারণে ঐ তারিখে আর গাছ কাটা সম্ভব হয়নি।এর পর বিদ্যুৎ বিভাগ গাছ কাটার জন্য আবেদন দিলেও তৎকালীন আ.লীগ নেতারা কিছু না বলাতে আবেদন মন্জুর করা হয়নি। এর পর বিদ্যুৎ বিভাগ একাধিক চেষ্টা করেও এই লাইনের গাছ কাটানো সম্ভব করতে পারি।যদিও সরকার পতনের একমাস আগে বন বিভাগের লোকজন এসেই গাছ গণনা করে গাছ যেগুলো কর্তন করা হবে সেগুলোর উপর লাল রং দিয়ে দাগ দিয়ে যায়। কিন্তু সরকার পতনের পর আবারো দীর্ঘ দিন ধরে নিশ্চুপ বন বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগ।
স্থানীয়দের মতে বন বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের সাথে একটা লুকোচুরি খেলছে। কারণ তাদের কে একাধিক আশা দিয়ে হতাশার পথে নামিয়ে দিচ্ছে তারা। গত ২০২৩ সালে যখন এমপি একরামুল করিম ঘোষণা দেন বিদ্যুৎ অতি শীগ্রই চালু হবে তখন একাধিক ব্যক্তি অন্যের থেকে টাকা হাওলাত,সুদের উপর ও ধান বিক্রি সহ অন্যন্য মাধ্যমে বিদ্যুৎের জন্য ঘর ওয়ারিংয়ের মালামাল ক্রয় করেন।কিন্তু দীর্ঘ ২০ মাস পার হলেও কেউই পারে নি এই লাইন চালু করতে। তাহলে কি এভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে এক হাজার গ্রাহক।
হেলাল উদ্দিন নামে এক যুবক জানান, বিদ্যুৎতের আশায় দোকান দিয়েছি কিন্তু বিদ্যুৎতের আলোর কিছুই দেখতেছি না।পরে বাধ্য হয়ে কয়েকজন মিলে একটি জেনারেটরের মাধ্যমে দোকান চালাচ্ছি।

কামাল নামে আরেক ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি জানান, আমাদের এখানে তৎকালীন ক্ষমতাশালী দলের নাম বিক্রি করে প্রতি টি খুটি থেকে (৫০০-১০০০) কারো কাছ থেকে সিস্টেমে আরো বেশি টাকা করে চাঁদা দিতে হয়েছে। কিন্তু চাঁদা নিয়ে ও তারা লাইন চালু করেনি।
আমেনা নামে আরেক জন জানান বিদ্যুৎতের আশায় সমিতি থেকে টাকা নিয়ে ঘর ওয়ারিং করেছি রুমে ফ্যান লাগিয়েছি কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো টা কাজে লাগেনি। পরে বাধ্য হয়ে ফ্যান বাবার বাড়িতে নিয়ে গেছি।

স্থানীয় নিজেরা করি এনজিও সংস্থার প্রতিনিধি সুরেশ কর্মকার বলেন- আমরা তিন এলাকার লোকজনের সাথে আলাপ আলোচনা করছি সমাজ ভিত্তিক আমাদের টিম রয়েছে তাদের নিয়ে ঈদের পরে একটা মানববন্ধন করবো এবং ডিসি বরাবর একটি স্মারক লিপি জমা দিব।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায় এমপি একরামের ঘোষণা পরপরই স্থানীয় গ্রাহক রা ধানের উপর টাকা নিয়ে, কিস্তিতে টাকা নিয়ে ঘরের ওয়ারিং করান কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো লক্ষ্যে পৌছায় নি। এর পর গত সংসদ নির্বাচনের প্রথম সাপ্তাহে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর আরেক টি ঘোষণা আসে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও পূরণ হয়নি। এর পর গত উপজেলা নির্বাচনে সব এলাকায় সংসদ সদস্যের লোক গিয়ে তারা নির্বাচনে সাবাব চৌধুরীকে ভোট দিলে সব কাজের আগেই এই কাজ টি করা হবে আগে।কিন্তু উপজেলা নির্বাচন শেষ না হতেই সরকার পতনের ঘটনা ঘটে যাতে করেই সব কিছুই বিপলে যায়। কিন্তু এত বছরে কি পেয়েছে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সেই অবহেলিত এলাকার বাসিন্দারা জনমতে একই প্রশ্ন।

এই বিষয়ে বন বিভাগের সাথে কথা বললে জানান সরকার পতনের পর এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে আমাদের কে কেউই অবগত করেনি। আবেদন যদি পাই আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিব। এবং গাছ কর্তনের সুযোগ দিব।এতে আমাদের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমরা কিছু করতে পারবো না।

সুবর্ণচর উপজেলা জোনাল অফিসার জানান আমি নতুন এসেছি যদিও এই বিষয় টা নিয়ে আমার নিকট এখনো পর্যন্ত কেউই আসেছি যদি কেউই আসে আমরা বন বিভাগের কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে অতিদ্রুত চালু করার বিষয় পদক্ষেপ নিতে পারবো।

এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান বিষয় টা আমাকে কেউই জানাননি, যদিও আপনার থেকে শুনেছি আমি এই বিষয়ে অতিদ্রুত দুই পক্ষে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর