প্রকাশিত: ২০ মার্চ, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২০ মার্চ, ২০২৫

শহীদী জামে মসজিদে রমজান জুড়ে নানা আয়োজন

মোহাম্মদ হানিফ, সোনাইমুড়ী : ঘড়িতে সময় বিকাল ৪টা। মসজিদ প্রাঙ্গণে পা দিতেই কানে এলো সুমধুর কন্ঠে কোরআন তেলাওয়াতের শব্দ। মসজিদটির ভেতরে গিয়ে দেখা গেলো কিশোরেরা কোরআন পাঠ করছে। একটু পরেই আসরের নামাজের আজান দিলেন মোয়াজ্জিন। নামাজ শেষে হামদ ও নাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে একদল যুবক। পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন চলছে মসজিদটিতে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার চাষিরহাট এলাকার বহুল আলোচিত দরজা বিহীন শহিদী জামে মসজিদের চিত্র এটি।

জানা যায়, পবিত্র মাহে রমজানের শুরু থেকে আয়োজক কমিটির ব্যবস্থাপনায় নানা আয়োজন করা হয় এই মসজিদে। রমজান মাসের পুরোটা জুড়ে ইসলামি সংস্কৃতি এ দ্বীনি জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে বিশেষ আয়োজন থাকে। প্রতিদিন শতশত মুসল্লি একসাথে ইফতার গ্রহণ করেন এখানে।  পুরুষ মুসল্লিদের পাশাপাশি নারী মুসল্লিদের জন্যেও ইফতারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া মসজিদটিতে প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজেও অংশগ্রহণ করেন নারীরা।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, পবিত্র সিয়াম সাধনার এই মাসে ফজরের নামাজের পরপরই নানামুখি কর্মব্যস্ততা শুরু হয় মসজিদটিতে। ফজরের পর বয়স্ক ও শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়। নানা মাসলা মাসায়েলের তালিম, রমজানের গুরত্ব, নামাজের গুরুত্ব সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বিকালের পর থেকে কিশোর ও যুবকদের ইসলামিক সংগীত, কোরআন তেলোয়াত, ইসলামী আলোচনার প্রতিযোগীতা চলে। মসজিদের খতিব এসকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। চারতল বিশিষ্ট মসজিদ কমপ্লেক্সের নিচ তলা ও দ্বিতীয় তলায় নামজের জন্য ব্যবহার করা হয়। তৃতীয় তলা অডিটোরিয়াম বা হলরুম হিসেবে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজনে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মসজিদটিতে কোন দরজা নেই, নেই তালা দেওয়ার ব্যবস্থা। সকলের জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকে মসজিদটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাগরিবের কিছু সময় পূর্বে মুসল্লিরা ইফতারের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসতে থাকেন। আশপাশের বিভিন্ন বয়সের, নানা পেশার মুসল্লিদের আগমনে মিলন মেলায় পরিনত হয় মসজিদ কমপ্লেক্সের নিচতলা। কাতারে সারিবদ্ধ ভাবে তারা বসার পর খেজুর ও পানি পরিবেশন করে স্বেচ্ছাসেবক ও খাদেমরা। মাগরিবের আজান হলে ইফতার শুরু করেন রোজাদারেরা। পানি ও খেজুর খেয়ে তারা মাগরিবের নামাজ আদাই করেন। নামাজ শেষ হতেই শৃঙ্খলার সাথে মুহুর্তেই ইফতারের বক্স পৌছে যায় সকল মুসল্লিদের হাতে হাতে। ছোলা, মুড়ি, সরবত, খেজুর, কলাসহ বিভিন্ন পদের খাবার দিয়ে সুশৃঙ্খল আনন্দঘর পরিবেশে ইফতার সম্পন্ন করেন মুসল্লিরা। একই তলায় মসজিদের একপাশের ভিন্ন সারিতে ইফতার করেন কিশোরী ও নারীরা।

কয়েকজন রোজাদার নারী মুসল্লির সাথে কথা বলে জানা যায়, ধর্মীয় সকল কর্মকান্ডে পুরুষের পাশাপাশি তারাও অংশগ্রহণ করছেন। পর্দার সাথে এই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত জামায়াতের সাথে তারা নামাজ পড়েন। এমনকি শুক্রবারের জুম্মা ও ইদের নামাজের জামায়াতে তারা আনন্দের সাথে অংশ গ্রহণ করে থাকেন। মসজিদটিতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণের সুযোগ নেই বলেও জানা তারা।

শহীদী মসজিদে ইসলামী নানা আয়োজনের পরিচালক ও খতিব রাকিবুল হাসান জানান, পবিত্র মাহে রমজান মাসে মানবজাতির জন্য আল্লাহ মহা পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন নাজেল করেছেন। বরকতের এই মাসে তরুনদের মাঝে কোরআনের আলো পৌঁছে দিতে তিনি এই আয়োজন করেছেন। কিশোর ও তরুনেরা এসকল আয়োজনে স্বতস্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করছেন বলে জানান তিনি।

মসজিদ কমিটির সদস্য নিজাম উদ্দিন জানান, অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তিনি। মসজিদটি তারা পরিচালনা করেন। রমজান মাসের ব্যতিক্রমি আয়োজন সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতি বছরের মত এবারো পুরো রমজান মাসব্যাপি ইফতার ও ইসলামি মূল্যবোধ চর্চার এই আয়োজন চলমান থাকবে। রোজাদারদের ইফতার শুধু নয় সওম অর্থাৎ সংযমের প্রকৃত শিক্ষা ও ইসলামে মহান আদর্শ মুসল্লিদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নানামুখি আয়োজন করা হয়েছে এই মসজিদে।

নারী মুসল্লিদের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “ইসলামে নারী ও পুরুষদের মধ্যে কোন বৈষম্য নেই। নারীরা শুধু মুসলিম জাহানের ইমামের পদে থাকতে পারবেন না। এছাড়া আল্লাহর নির্ধারিত পর্দা মেনে রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সমাজের যে কোন কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন। আমাদের সংগঠনের বোনেরাও ইসলামের সকল কার্যক্রমে পুরুষের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করে থাকেন।”

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর