প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০২৫

ঘুষ গ্রহণের সংবাদ বন্ধে সাংবাদিককে ঘুষের প্রস্তাব!

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : বেগমগঞ্জ উপজেলার বালুচরা ইব্রাহিম মিজ্ঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর এসকল অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের ঘুষ প্রস্তাব করেন তিনি। রবিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে স্কুলটির প্রধান ফটকে প্যানা-ফেষ্টুন নিয়ে প্রধান শিক্ষক নূর হোসেনের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে এসএসসি পরিক্ষায় অংগ্রহণে ব্যর্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা চলতি এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেষ্ট পরিক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরিক্ষা অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগ রয়েছে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক ঘুষের বিনিময়ে ৬ বিষয়ে অনুত্তীর্ণ এক শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন। এছাড়া টেষ্ট পরিক্ষায় অনুত্তীর্ণদের এসএসসি পরিক্ষার সুযোগ করে দিতে ঘুষ দাবির অভিযোগও তুলেছেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, স্কুলে টেষ্ট পরিক্ষা হয়। রেজাল্ট খারাপ করায় কমিটির সিদ্ধান্তে অনেক পরিক্ষার্থীকে এসএসসির জন্য বাতিল করা হয়। পরে এসকল শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরিক্ষার সুযোগ করে দিতে মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন প্রধান শিক্ষক নূর হোসেন।

আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ফায়জার বাশার লাবিব নামে তাদের এক সহপাঠী ৬টি বিষয়ে টেষ্ট পরিক্ষায় অকৃতকার্য হয়। তাকেও এসএসসি পরিক্ষার জন্য বাতিল করা হয়। তবে লাবিবের পরিবার থেকে ঘুষ নিয়ে প্রধান শিক্ষক নূর হোসেন তাকে এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। আর ঘুষ দিতে না পারায় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

বিক্ষোভকারী এক অভিভাবক বলেন, যে সকল পরিক্ষার্থী টেষ্ট পরিক্ষায় চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদেরকে বোর্ড পরিক্ষার জন্য বাতিল করা হয়েছিলো। তবে এর ভেতরেও ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে। আট বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষককে ঘুষ দিয়ে এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে। ঘুষের টাকার জন্য পরিকল্পিত ভাবে টেষ্ট পরিক্ষায় অনেককে অকৃতকার্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এবিষয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, স্কুল থেকে টেষ্ট পরিক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করা মোট ১৮ পরিক্ষার্থীকে বোর্ড পরিক্ষার জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে এই ১৮ জনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নিয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক নূর হোসেন টেষ্টে ৬ বিষয়ে অকৃতকার্য ফায়জার বাশার লাবিবকে এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

এসকল অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে কক্ষে পাওয়া যায় না। এসময় তার মুঠোফোন কল দিলেও সেটি রিসিভ হয়নি। পরবর্তীতে প্রতিবেদকের সাথে দেখা করে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য জোরাজুরি করতে থাকেন। এসময় তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাকেও সাথে আনেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিককে ঘুষ গ্রহণের প্রস্তাব দেন সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর