প্রকাশিত: ৫ মে, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৫ মে, ২০২৫

বাদী-বিবাদী কাউকেই চেনেনা মামলার প্রধান স্বাক্ষী!

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ী থানায় গত ২৫ এপ্রিল একটি ফৌজদারি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। সেই মামলায় প্রধান স্বাক্ষী ও জখমী হিসেবে যাকে উপস্থাপন করা হয়েছে তিনি বাদী-বিবাদী কাউকেই চিনেন না। তবে স্বাক্ষী না চিনলেও এই মামলায় তদন্ত-ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার হয়েছেন বিবাদী। ষাটোর্ধ বৃদ্ধ বাবাসহ বিবাদী খেটেছেন জেল। জমিজমা সংক্রান্ত বিভেদের বিষয়ে থানার ওসি আলোচনা করবেন এমন কথা বলে থানায় ডেকে এনে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিবাদী পক্ষের।

মামলা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল সোনাইমুড়ী উপজেলার নদনা ইউনিয়নের বোরপিট এলাকায় চাষাবাদের জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এই ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করেন নদনা মোজা বেপারী বাড়ীর ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী আছমা আক্তার। বিবাদী করা হয়েছে একই বাড়ীর আবদুল হক (৬০) তার ছেলে হারুনুর রশিদ (৪৫) মেয়ে আফসানা বেগম সহ মোট পাঁচ জনকে। মামলায় ১নং স্বাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে নদনা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের (মুজাপ্পুর আলী ব্যাপারী বাড়ীর) আনোয়ার হোসেনের ছেলে আল-আমিন (২২), পর্যায়ক্রমে ২,৩ ও ৪ নং স্বাক্ষী দেখানো হয়েছে নদনার ১ নং ওয়ার্ডের মৃত এমদাদ উল্যার তিন ছেলে-মেয়ে মোঃ সুজন, কামাল ও শাহিন আক্তারকে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে মারামারির ঘটনা ঘটেছে এপ্রিলের ৬ তারিখ দুপুর দেড়টার দিকে। এসময় বিবাদী আব্দুল হক জমিতে ধান কাটতে থাকা ১নং স্বাক্ষী আল আমিনের হাতে ও পিঠে ছেনী দিয়ে কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় বাদী আছমা আক্তার ১ নং স্বাক্ষী আল-আমিনকে উদ্ধার করতে আসলে তাকে শ্লীলতাহানি করা হয় ও গলায় থাকা স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নেন বৃদ্ধ বিবাদী আব্দুল হক। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ১নং স্বাক্ষীকে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সরকারি হাসপাতালের খাতায় যার রেজিঃ নং- ৯৪৯/০৫, তারিখ ১৬/০৪/২০২৫ ইং।

এদিকে নোয়াখালী আদালতে গত ২৯ এপ্রিল মামলার ১নং স্বাক্ষী বিজ্ঞ বিচারকের কাছে জানান, তিনি এই মামলার বাদি-বিবাদী কাউকেই চিনেননা। বানোয়াট ভাবে তাকে এই মামলার ১নং স্বাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরে স্বাক্ষীর জবানবন্দি অনুযায়ী জেল হাজতে থাকা বাদী পক্ষে দুজনকে জামিন দেয় আদালত। মামলার ১নং স্বাক্ষী আল-আমিন প্রতিবেদককে জানান, তিনি পারিবারিক একটি সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করতে সোনাইমুড়ী থানায় গিয়েছিলেন। মূলত এই ঘটনার বাদি-বিবাদি কাউকেই তিনি চিনেন না।

মামলার বিবাদী হারুনুর রশিদ বলেন, “২৬ এপ্রিল সকালে সোনাইমুড়ী থানার এস আই ইস্রাফিল ও সুজন তাদের বাড়িতে এসে চা-নাস্তা করেন। তারা প্রস্তাবদেন সোনাইমুড়ী থানার ওসি জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলতে চান। পরে আমি ও আমার বাবা আবদুল হক থানার এস আই দের সাথে থানায় আসি। সারাদিন আমাদের থানায় আটকে রেখে দুপুরে আদালতে চালান দেওয়া হয়। কি মামলায়, কেন গ্রেফতার করা হয়েছে কিছুই জানানো হয়না।”

এবিষয়ে মামলার বাদি আছমা আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “মামলার ১নং স্বাক্ষী তাদের জমিতে ধান কাটতে এসেছিলেন। বিবাদী পক্ষের দ্বারা হামলার শিকার হলে তাকে সহ থানায় গিয়ে মামলা দেওয়া হয়। এখন সে বিবাদী পক্ষ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে আদালতে মিথ্যা স্বাক্ষী দিয়েছে। স্বাক্ষী যে তার সাথে থানায় গিয়ে ছিলো সেই ভিডিও থানার সিসি টিভিতেও রয়েছে।”

এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন সাব-ইন্সপেক্টর ইসরাফিল সরকার। তিনি নিশ্চিত করেন ওয়ারেন্ট-তদন্ত ছাড়াই ঝামেলা এড়াতে বিবাদী পক্ষকে ওসি সাহেবের সাথে আলোচনার কথা বলে থানায় ডেকে আনা হয়েছিলো। পরে তাদের আদালতে চালান দেওয়া হয়। ওয়ারেন্ট বা তদন্ত ছাড়া কিভাবে বিবাদীদের প্রতারনার মাধ্যমে গ্রেফতার করা হলো এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ওসি সাহেবেরে সাথে কথা বলতে বলেন। এছাড়া মামলার প্রথম স্বাক্ষীর ঘটনা অস্বীকার করার বিষয়টি প্রমানিত হলে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, আলোচনার কথা বলে থানায় ডেকে এনে বিবাদী পক্ষকে আদালতে চালান দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, “মামলার প্রধান স্বাক্ষী এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না থাকার বিষয়ে স্বাক্ষী দিয়ে থাকলে আমরা সেভাবে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে দিবো।”

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর