
মোহাম্মদ হানিফ, নিজস্ব প্রতিনিধি : জেলাজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত এবং ফেনীর মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলাজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জেলার প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত সর্বত্রই এখন থইথই পানি। বহু বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে বন্যার প্রবল শঙ্কা। গতকালও (বুধবার) দিনভর থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ১৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অস্বাভাবিক। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে নদীবন্দরে ১ নম্বর এবং সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
পরীক্ষা স্থগিত, বিপাকে শিক্ষার্থীরা :
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় জেলার চারটি উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর নিশ্চিত করেছেন, সদর, সুবর্ণচর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধতার কবলে পড়ায় এবং যাতায়াতের রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবারের পরীক্ষাগুলো স্থগিত থাকবে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীতে পানির স্তর ১৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। যদিও পানি এখনও বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে, তবে টানা বৃষ্টিতে সদর, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সুবর্ণচরে পরিস্থিতি গুরুতর।
জেলা শহর মাইজদীতে জলাবদ্ধতার দৃশ্য সবচেয়ে ভয়াবহ। স্টেডিয়াম পাড়া, জেলখানা সড়ক এলাকা, ফকিরপুর, হরিনারায়ণপুর, লক্ষ্মিনারায়ণপুর, হাউজিংসহ বেশিরভাগ এলাকার সড়ক এখন হাঁটু পানিতে তলিয়ে আছে। নিচতলা ও কাঁচা ঘরগুলোতে পানি ঢুকে যাওয়ায় বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও উদাসীনতার অভিযোগ।
আপনার মতামত লিখুন :