
উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ : সরকারি নির্দেশনা ও হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এখনও সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বসুরহাট পৌরসভার আওতায় ‘মেসার্স রিয়াদ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে এ টোল আদায় করছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বাজার ইজারার নাম ব্যবহার করে কাভার্ড ভ্যানপ্রতি ১০০ টাকা, বড় ট্রাক ৯০ টাকা, কাঠালের গাড়ি ৩০০ টাকা, কলার গাড়ি ২০০ টাকা এবং মাদ্রাসার টেম্পু থেকেও ৪০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। টোল আদায়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট রশিদও ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে উল্লেখ আছে— “যে কোনো গাড়ি পৌর এলাকাতে প্রবেশ করিলে পৌর টোল পরিশোধ করিতে হইবে।”
এইভাবে মোট ৩৫ ধরনের যানবাহন থেকে ৪০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে।
এ অনিয়ম শুধু বসুরহাট পৌর এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের চৌধুরীহাট বাজারেও একই পদ্ধতিতে টোল আদায় করা হচ্ছে। সেখানে বড় ট্রাক থেকে ১২০ টাকা, কাভার্ড ভ্যান থেকে ১৫০ টাকা, ওষুধ পরিবহনকারী গাড়ি থেকে ৮০ টাকা সহ মোট ১৮ ধরনের যানবাহন থেকে সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা পর্যন্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, হাটবাজার ইজারাদার বা পৌর ইজারাদারদের সড়কে চলাচলরত যানবাহন থেকে টোল আদায়ের কোনো বৈধতা নেই। ইজারাদাররা কেবল নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড বা বাজার এলাকায় অবস্থানরত যানবাহন ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে নির্ধারিত নিয়মে টোল নিতে পারে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর ফরহাদ শামিম জানান, “ইজারাদাররা যদি ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে সড়কে টোল আদায় করে, তাহলে তাদের ডেকে পাঠিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। প্রয়োজনে ইজারা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ভুক্তভোগী চালক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ ধরনের টোল আদায় এক ধরনের চাঁদাবাজি, যা দ্রুত বন্ধ করা না হলে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
আপনার মতামত লিখুন :