প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৯ জুলাই, ২০২৫

সুবর্ণচরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বাড়ছে চুরি ডাকাতি

উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর : জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতিতে বেশকিছু দিন ধরে চুরি ডাকাতি বেড়েই চলছে।
৫৭৬বর্গ মাইল আয়তনের প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার জনগণের জন্য ১টি থানা ও ২টি পুলিশ ফাঁড়ি দিয়ে পুরো উপজেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করাটা অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে পুরো উপজেলায় বেড়েছে চোর ডাকাতদের চুরি ডাকাতির কার্যক্রম।

বিগত কয়েকমাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কৃষকের গৃহপালিত গরু থেকে শুরু করে বাদ যাচ্ছেনা বসতঘর, দোকানপাট, হোন্ডাচুরি, টিউবওয়েল, পানির পাম্প সহ ছোটখাট চুরিও। এমনকি তাদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জামে মসজিদ থেকে সুবর্ণচর উপজেলার মডেল মসজিদ পর্যন্ত। এসব বিষয়ে প্রশাসনও থানা পুলিশের তদারকি অনেকটা আই ওয়াশের মতো।

চুরি- ডাকাতির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে বা মামলা দিলে অভিযোগ বা মামলার অগ্রগতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। চুরি বা ডাকাতি হওয়া স্বর্ণালংকার, মালামাল, টাকা উদ্ধারে যেমন পুলিশের সাফল্য নেই তেমনি চোর-ডাকাত গ্রেফতারেও পুলিশের তেমন কোন সাফল্যের খবর পাওয়া যায়নি। দরজা বা জানালার গ্রিল বা গেট ভেঙ্গে চোর-ডাকাত ঘরে ঢুকে।

পুলিশের রাতের টহল চাহিদার তুলনায় অনেকটা কম হওয়ায় প্রতিরাতেই চুরির ঘটনা ঘটছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে সুবর্ণচরে ৩টি ইউনিয়নে ডাকাতি ও চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে প্রথমটি ঘটে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নে। চর জব্বর ইউনিয়নে আবদুল্লাহ মিয়ার হাট থেকে একটু দক্ষিণে আল আমিন রাস্তার মাথার পাশে প্রবাসী সাদ্দামের বাড়িতে গতরাতে জানালার গিরিল কেটে এক দু/র্ধ/র্ষ ডা/কা/তি হয় এবং প্রবাসীর বাড়ি থেকে স্বর্ণ, নগদ টাকা পয়সা ও ঘরের সব মালামাল নিয়ে যায় । অন্য চুরির ঘটনাটি ঘটে, পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মাহফুজ সওদাগরের বাড়িতে। গতকাল রাতে খাবারের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মেশিয়ে ছমির হাট বাজারের মেসার্স হাজী এন্টারপ্রাইজ এর পরিচালক স্বনামধন্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব, কামাল উদ্দিন মিয়ার পৈতিক নিবাস হাজী মাহফুজুল হক সওদাগরের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
অভিনব কায়দায় খাবারের সাথে নেশাজাত দ্রব্য মিশিয়ে সবাইকে ঘুমে অচেতনে অসুস্থ করে পুরো ঘরে চুরি সংঘটিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে জানা গেছে, আনুমানিক ৫ ভরি স্বর্ণ অলংকার ও প্রায় নগদ ৮০০০০/-(আশি হাজার) চুরি হয়েছে।
পরিবারে বাকি সদস্যরাও অসুস্হ বলে এখনও প্রকৃত হিসাব পাওয়া যায় নি।
এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়াতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নেয়া হয়েছে।
সর্বশেষ চুরির ঘটনাটি ঘটেছে ২নং চরবাটা ইউনিয়নের চরবাটা ভূইয়ার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ে। গতকাল রাতে স্কুলঘরের দরজা ভেঙে ফ্যান নিয়ে যায়।
চর জব্বর থানার সামনের ব্যবসায়ী হাজী এন্টার প্রাইজ এর সত্বাধিকারী কামাল উদ্দিন জানান, থানা থেকে মাত্র ১০০গজ দূরে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বে ও কিছুদিন পূর্বে আমার দোকানসহ একই রাতে ৩টি দোকান চুরি হয় কিন্তু পুলিশ এই পর্যন্ত কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি।
সুবর্চরে এসব ঘটনায় সুবর্ণচরের নাগরিক সমাজ হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সুবর্ণচর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি কবি ফিরোজ শাহ বলেন, শুনলাম প্রতিমাসে সুবর্ণচর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা সভা হয়ে থাকে, কিন্তু সভার এজেন্ডাতে এই বিষয়গুলো নিয়ে কী আলোচনা হয়না?আর আলোচনা হলে এই বিষয়ের বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছেনা কেন? রাতের চুরি ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশকেও কাজে লাগানো যেতে পারে।
এই বিষয়ে চর জব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি,তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, এই রকম চুরির বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি, তারপরও আমরা গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখি। তাছাড়া ইদানিং চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়াতে আমরা গ্রাম পুলিশদেরও কাজ করতে বলেছি কিন্তু চর জব্বর ইউনিয়ন ছাড়া বাকিগুলোতে তারা নিজ থেকে কাজ করছেনা।

আরও পড়ুন