
স্টাফ রিপোর্টার, সোনাইমুড়ী : সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নে এক স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার ঘটনায় দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দ্রুত অভিযানে অপহৃত ওই কিশোরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আল মামুন (২০) ও মো. মুরাদ হোসেন (১৯)। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া কৃষক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আসিফ আকরাম (১৬) গত শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে তার বিদ্যালয় মাঠে অন্য স্কুলের ছাত্রদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় অংশ নেয়। খেলা শেষের দিকে সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রের সঙ্গে আসিফের বন্ধু ইমনের সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক সেই মুহূর্তে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
এরপর বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে আসিফকে মোবাইল ফোনে নদোনা স্কুলের মাঠে আরেকটি ফুটবল খেলার প্রলোভন দেখিয়ে তার দুই বন্ধুসহ একটি সিএনজিতে সোনাইমুড়ীর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে সোনাপুর বাজারের পূর্ব পাশে সিএনজিটি পৌঁছালে ৪-৫টি মোটরসাইকেলে করে ১০-১১ জন দুষ্কৃতকারী তাদের পথরোধ করে। তারা আসিফকে সিএনজি থেকে নামিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে কালিকাপুর বাজারের কাছে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৩ প্রোম্যাক্স এবং একটি স্যামসাং এ২০এস মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অপহৃতের মা শিরিন আক্তার (৪৭) জানান, অপহরণকারীরা তার ছেলের মোবাইল থেকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি জানার পরপরই তিনি সোনাইমুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে। তারা সোনাপুর ও কালিকাপুর এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে কালিকাপুরের একটি বাড়ি থেকে অপহৃত আসিফ আকরামকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আল মামুন ও মুরাদ হোসেন নামের দুই অপহরণকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওসি মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, “অপহৃত কিশোরকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :