
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : মানসিক চাপ, ঋণ আর পারিবারিক সমস্যার জেরে স্ত্রী ও কন্যাকে হত্যার মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন সোনাইমুড়ীর এক যুবক। তবে পুলিশের তাৎক্ষণিক তদন্তে জানা যায়, তার স্ত্রী ও সন্তান জীবিত ও সুস্থ আছেন। বিদেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেরার পর থেকেই যুবকটি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও তার পরিবার।
রবিবার ভোরে সোনাইমুড়ী বাইপাস গোল চত্বর এলাকায় মোঃ বেলাল হোসেন (৩২) নামের এক যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখে পুলিশের মোবাইল টিম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল পুলিশকে জানান, তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেছেন। তার এই স্বীকারোক্তিতে পুলিশ দ্রুত তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুগিরখিল আশরাফ খানের নতুন বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, বেলালের স্ত্রী রবিনা আক্তার এবং তার কন্যা সন্তান সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে আছেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের পর বেলাল হোসেনের মানসিক সমস্যার পেছনের করুণ কাহিনি
উঠে আসে। প্রায় ১১ লাখ টাকা খরচ করে তিনি আরব-আমিরাত হয়ে গ্রিসে যান। সেখানে ছয় মাসের মাথায় এক মাফিয়া চক্র তাকে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে আটকে রেখে নির্যাতন করে। তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেও পরে অবৈধভাবে থাকার কারণে গ্রিসের পুলিশের হাতেও এক মাস ধরে নির্যাতনের শিকার হন। এসব নির্যাতন সহ্য করে দেশে ফেরার পর তিনি জানতে পারেন তার প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেছে। এই মানসিক আঘাতের পর তিনি পার্শ্ববর্তী এলাকার রবিনা আক্তারকে তার কন্যা সন্তানসহ বিয়ে করেন, যা তার পরিবার মেনে নেয়নি।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, বেলাল বিদেশ থেকে ফেরার পর থেকেই নানা ধরনের পারিবারিক ও অর্থনৈতিক চাপে ভুগছিলেন। তার স্ত্রী রবিনা আক্তার প্রায়শই তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে বেলালের তুলনা করতেন। এছাড়াও কয়েক লাখ টাকার ঋণ এবং সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার কারণে তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
ওসি আরও জানান, বেলাল হোসেন বর্তমানে উদ্ভট আচরণ করছেন। তাকে কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ।
আপনার মতামত লিখুন :