
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবিতে হাতিয়া উপজেলায় লিফলেট বিতরণ ও গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে উপজেলা সদরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহ নাওয়াজ। উপজেলা জেলা বিএনপির ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরীর, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহব্বাক ও যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আমিরুল ইসলাম আমির।
গণজমায়েতের প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ নাওয়াজ বলেন, “দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে মাঠে মাঠে জনগণের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছে এবং করবে। ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না।
গণজমায়েত শেষে শাহ নাওয়াজ প্রথমে হাতিয়ার কৃতি সন্তান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমুরুল ইসলাম কালামের কবর জিয়ারত করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
পরে তিনি দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। মন্দিরে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে শাহ নাওয়াজ বলেন, “বিএনপি সব ধর্মের মানুষের সম্প্রীতি ও সহাবস্থান রক্ষায় বিশ্বাসী। উৎসব সবার, আনন্দ সবার। ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে আমরা সবাই এই দেশে একসাথে বসবাস করি। এই ঐক্যই বাংলাদেশের শক্তি।
শাহ নাওয়াজের এ বক্তব্যে উপস্থিত পূজারীরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জানান। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে বিভিন্ন মন্দিরে উপস্থিত হয়ে পূজারীদের শুভেচ্ছা জানান।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হাতিয়া উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় অংশগ্রহণ করেন। লিফলেট বিতরণকালে তারা বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি জনগণের হাতে তুলে দেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
নেতাকর্মীরা জানান, এ ধরনের গণসংযোগ আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার হবে। তারা বিশ্বাস করেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো আন্দোলন সফল হতে পারে না। তাই মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে।
উপস্থিত বিএনপি নেতারা বলেন, আন্দোলন ও আগামীর নির্বাচনে জনগণকে সম্পৃক্ত করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ। জনগণের দাবি ও অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে থেকে কাজ করে যাবেন তারা। শাহ নেওয়াজের নেতৃত্বে হাতিয়ায় বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে বলে নেতাকর্মীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হাতিয়ার এই কর্মসূচি শুধু রাজনৈতিক দাবি-দাওয়ায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্তও সৃষ্টি করেছে। কবর জিয়ারত থেকে শুরু করে দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন—সবখানেই শাহ নেওয়াজ মানুষের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের গণসংযোগ হাতিয়ায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং জনগণের সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।
আপনার মতামত লিখুন :