প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১০ অক্টোবর, ২০২৫

হাতিয়ায় নিবন্ধিত প্রায় অর্ধেকে জেলে পাচ্ছেন সরকারি ভিজিএফ কার্ডের চাল

সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নদী ও সাগরে মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে। এ সময়ে জীবিকা হারানো জেলেদের সহায়তায় সরকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দিয়েছে। তবে  হাতিয়ায় নিবন্ধিত জেলেদের অর্ধেক পরিবার সেই সহায়তা পাচ্ছে—যা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে জেলেপাড়ায়।

মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলার মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ইলিশ আহরণ হয়েছে। হাতিয়ায় লক্ষাদিক জেলে থাকলে ও বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৯৫ জন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১৫ হাজার ৭৩৩ পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। ফলে  প্রায় অর্ধেকেরও বেশি জেলে পরিবার সরকারি সহায়তার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ইলিশ প্রজনন রক্ষায় প্রতিবছরই সরকার নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়। এ বছর  বরাদ্দ এসেছে  ৩৯৩ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন চাল, যা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উপজেলা বিতরণ হবে।

তবে বাস্তবে অনেক জেলে আমিন রসুল অভিযোগ করেছেন, ভিজিএফ তালিকায় প্রকৃত জেলেরা বাদ পড়ছেন, অথচ অপ্রকৃত ব্যক্তিরা সুবিধাভোগী হচ্ছেন। এতে পরিবার নিয়ে না খেয়ে দিন কাটানোর আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছু হাতিয়ার এক জেলে বলেন, “যারা নদীতে যায় না তাদের নামে জেলে কার্ড। আমরা নদী-সাগরে যুদ্ধ করি, অথচ আমাদের কার্ড নাই। নিষেধাজ্ঞায় নদীতে নামতে পারব না, ঘরে খাবারও নেই। তালিকায় নাম না থাকায় সরকারি চালও পাব না।

উপজেলা পায়তান ঘাটের  জেলে নবীর মাঝি বলেন, “এবার মাছ কম ছিল, এখন নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ধার করে নদীতে নামছি, কিন্তু খরচ উঠেনি। সরকারি ভাতা কবে পাব, তাও জানি না। অনেক সময় অভিযান শেষের দিকে চাল দেওয়া হয়, তখন কোনো লাভ হয় না।”

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ হাসান  বলেন, “সরকারি বরাদ্দ সীমিত থাকায় নির্ধারিত সংখ্যক জেলেকেই সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এ বছরও সব জেলেকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর