প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৮ নভেম্বর, ২০২৫

শিক্ষকের পিটুনিতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মাদ্রাসার ছাত্রী মীম

সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : হাতিয়ায় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকের নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রী। গণিতের অঙ্ক না পারার ‘অপরাধে’ শিক্ষক শ্রেণিকক্ষেই তাকে এমনভাবে পেটান যে, মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত নিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছে শিশুটি। এই বর্বর ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ক্ষোভ, নিন্দা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চরচেঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় এ নির্মম ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ছাত্রীর নাম মুনতাহা আকতার মীম (১৩)। সে ওই মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ক্লাস চলাকালে সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম অংকের সমাধান না পারায় হিংস্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং নির্মমভাবে শিশুটির পিঠ ও মেরুদণ্ডে আঘাত করেন। আঘাতের তীব্রতায় মীম মুহূর্তেই অচেতন হয়ে শ্রেণিকক্ষেই লুটিয়ে পড়ে। সহপাঠীরা আতঙ্কিত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মীমের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,
“আমার মেয়ের অপরাধ—সে অংক পারেনি! এর জন্য কি তাকে মেরে ফেলতে হবে? সে এখন ঠিক করে কথাও বলতে পারছে না, বারবার জ্ঞান হারাচ্ছে। আমি আমার মেয়েকে জীবিত ফেরত চাই!

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমান চন্দ্র আশ্চর্য জানান, “শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেরুদণ্ড কিংবা স্নায়ুতন্ত্রে গুরুতর আঘাতের আলামত আছে। দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না হলে স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিম ঘটনার গুরুতরতা অস্বীকার করে বলেন,
“আমি শুধু পিঠে একটি থাপ্পড় দিয়েছি। এতে এত কিছু হওয়ার কথা না।”
শিক্ষকের এমন মন্তব্যে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে আরও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ নয়।

মাদ্রাসা কি শিক্ষাঙ্গন, নাকি নির্যাতনকেন্দ্র? শিক্ষকের রূপ কি হওয়া উচিত, নাকি ভয়ঙ্কর তাণ্ডবের প্রতীক? অংক না পারা কি অপরাধ, যার শাস্তি মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া?

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম আজমল হুদা বলেছেন,
“পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। সত্যতা মিললে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর