
আবু ছায়েদ শাকিল, কোম্পানীগঞ্জ :
কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট অঞ্চলের বিভিন্ন কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়্যাহ কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাটের আয়োজনে ৪র্থ নূরানী বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।
১১টি কেন্দ্রে ১১০ মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এ বছর মোট ১ হাজার ৭৬০ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডের ৬৭৩ জন এবং চটকিবাড়ী বোর্ডের ১ হাজার ৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ধানশালিক বাজার মাদরাসা কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বসুরহাট আশরাফুল উলুম মাদরাসার দুটি কেন্দ্রে অংশ নেয় ৩৭০ জন। এ ছাড়াও মাইজদী মধুপুর জামিয়াতুল মাআরিফ মাদরাসার ১২৩ জন,সেনবাগ দারুল কলম মডেল মাদরাসার ১০১জন, বসুরহাট মহিলা মাদরাসায় ২১০ জন, নূরুল কোরআন মাদ্রাসায় ১৭৭ জন, মারকাযুত তাকওয়া মাদরাসায় ১৫৩ জনসহ অন্যান্য কেন্দ্রে সন্তোষজনক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর পরিদর্শন, নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট কাওমী মাদরাসা ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি মাওলানা মোজাম্মেলুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা আলী আহমদ, সহসেক্রেটারি মাওলানা কামাল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক মুফতী হেদায়েত উল্লাহ, প্রশিক্ষক সম্পাদক মাওলানা আহমাদুল হাসান, সদস্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, মাওলানা মোশাররফ হোসেন এবং ফাউন্ডেশনের সদস্য মাওলানা ইহসান আবরার। তাঁরা বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরে পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং কোনো অসুবিধার অনুপস্থিতি যাচাই করেন।
এর মধ্যে ধানশালিক বাজার মাদ্রাসা কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২৩৭ জন এবং বসুরহাট আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার দুটি কেন্দ্রে মোট ৩৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে মহিলা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য ছিল।
ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়্যাহ কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাটের কর্তৃপক্ষ জানায়, নূরানী বিভাগের শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিতকরণ, বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা এবং অঞ্চলের বিভিন্ন মাদরাসার মধ্যে শিক্ষাগত সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এটি কওমী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে তারা মনে করেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি আয়োজকরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং সফলদের জন্য বৃত্তির পাশাপাশি সার্টিফিকেট প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।
পরীক্ষা শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তরপত্র মূল্যায়ন কার্যক্রম অচিরেই শুরু হবে এবং ফলাফল শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। সফল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নগদ বৃত্তি, পুস্তকপত্রসহ স্মৃতিচিহ্ন প্রদান করা হবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া, আগামী বছরের পরীক্ষায় আরও বেশি কেন্দ্র যুক্ত করে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :