প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

ট্যানারি শিল্প শ্রমিকরা মৌলিক শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত

নিউজ ডেস্ক :
ট্যানারি শিল্প এলাকার দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিক  অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত। ৭৭ শতাংশ শ্রমিক আইনগত ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম মজুরি পান এবং ৮৬ শতাংশ শ্রমিকের কোন নিয়োগপত্র নেই।
বাংলাদেশ ট্যানারি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সলিডারিটি সেন্টার পরিচালিত- ‘হেমায়েতপুর এলাকায়’ এক যৌথ সমীক্ষায়  ট্যানারি শিল্প শ্রমিকদের এসব দুর্দশা চিত্র উঠে আসে।

চলতি বছরের আগস্ট – নভেম্বর মাসের পরিদর্শন চেকলিস্ট এবং শ্রমিক সাক্ষাৎকার ব্যবহার করে ছায়া পরিদর্শনের মাধ্যমে পরিচালিত এক সমীক্ষা আজ রবিবার ঢাকায় একটি অংশীজন সভায় উপস্থাপন করা হয়।
একশ’ একুশটি কারখানার দুইশ’ পঁচিশ জন শ্রমিকের সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে ওই সমীক্ষায় ব্যাপক অস্থায়ী কর্মসংস্থান ব্যবস্থা, মজুরি বৈষম্য এবং পেশাগত সুরক্ষার করুণ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
সমীক্ষায় মাত্র এক-পঞ্চমাংশ শ্রমিক বলেছেন- তারা বেতন স্লিপ পান এবং বেশিরভাগই তাদের মজুরি অনিয়মিত বা বিলম্বিত বলে উল্লেখ করেছেন। ৪২ শতাংশ বলেছেন- তারা দিনে দশ ঘন্টারও বেশি সময় কাজ করেন এবং ৩৩ শতাংশ সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করেন। ৬৩ শতাংশ বলেছেন- তারা দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী- আইনত দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম পান না।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে- মাত্র এক-তৃতীয়াংশ শ্রমিক ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) পান, ৫৮ শতাংশ বলেছেন- তাদের সঠিক পিপিই ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয় না এবং ৭৭ শতাংশ বলেছেন- তারা কোনও আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা প্রশিক্ষণ পাননি। এছাড়া ওইসব ট্যানারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ও উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, ৮৫ শতাংশ নারী (নারী শ্রমিক) অংশগ্রহণকারী বলেছেন- তারা মাতৃত্বকালীন ছুটি বা সুবিধা পান না এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী পরিষ্কার, পৃথক টয়লেট সুবিধার অভাব লক্ষ্য করেছেন, বঞ্চিত হচ্ছেন।

গবেষণায় বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা উঠে এসেছে। এক-তৃতীয়াংশ শ্রমিক মজুরি বা সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ দায়েরের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অনুপস্থিতির কথা জানিয়েছেন- ৪৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা কোন না কোন ধরণের দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হয়েছেন এবং প্রতিঘাতের ভয়ে অভিযোগ দায়ের করা থেকে এড়িয়ে চলেন। এতে আরও দেখা যায় ইউনিয়নভুক্ত কারখানার ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন, লিখিত চুক্তি, মজুরি-সম্পর্কিত অভিযোগ ব্যবস্থা এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদানে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে।

অনুষ্ঠানে, সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম জানান, হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুরে ট্যানারি কারখানা স্থানান্তরিত হওয়ার পরেও শ্রমিকরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে- সে চিত্র উল্লিখিত ছায়া পরিদর্শনের মাধ্যমে  উঠে এসেছে। তিনি জানান, এটা স্পষ্ট যে- শ্রমিকদের সমস্যা এখনও দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অগ্রাধিকারে নেই। যার পরিপ্রেক্ষতে ট্যানারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিরূপ প্রতিফলন ঘটে।  অন্যায্য ভাবে বিপুল সংখ্যক স্থায়ী শ্রমিক ছাটাই করা হচ্ছে এবং ছাটাই করার সুযোগ পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্যানারি শিল্প মালিকরা স্থায়ী শ্রমিক ছাটাই করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যোগসাজশে  ‘চুক্তিভিত্তিক’ শ্রমিক নিয়োগ দেয়া।  একেএম নাসিম জানান, মূলত নানান ধরনের অজুহাত ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে এই খাতে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন না করার অবৈধ সুযোগ পায় ট্যানারি শিল্প মালিক পক্ষ।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর