
আবু ছায়েদ শাকিল, কোম্পানীগঞ্জ :
নিয়োগবিধি সংশোধন, ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ এবং গ্রেড উন্নীতকরণসহ ছয় দফা দাবিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছে বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন (BHAA)। এতে উপজেলার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), আসন্ন টিসিভি টিকাদান ক্যাম্পেইনসহ সব তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
কর্মবিরতি শুরুর পর ২ ডিসেম্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, শিশুর প্রাথমিক চিকিৎসা এবং কমিউনিটি পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা স্থবির হয়ে পড়ে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, টিকাদান বন্ধ থাকায় হাম, পোলিও ও ডিপথেরিয়ার মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে; এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ১টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনের স্থানীয় নেতারা ও সদস্যরা।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়োগবিধি সংশোধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান নির্ধারণ, ১৪তম গ্রেড প্রদান, ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, টেকনিক্যাল পদমর্যাদা নির্ধারণ এবং পদোন্নতিতে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ।
নেতারা জানান, ২০১৮, ২০২০ ও চলতি বছরের মে মাসে আন্দোলনের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের জুলাই মাসে এক মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে সারাদেশে পূর্ণ কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বেড়েছে। কোম্পানীগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, “৪ ডিসেম্বর আমার শিশুর টিকা দেওয়ার তারিখ ছিল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারলাম টিকাদান বন্ধ। শিশুদের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক।”
বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
আপনার মতামত লিখুন :