প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

আহতকে বাঁচাতে গিয়ে কারাগারে, সোনাইমুড়ীতে বিতর্কিত হত্যা মামলা

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :
সোনাইমুড়ীতে একটি হত্যা মামলায় সাক্ষী হতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক যুবককে আসামি করে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর নাম মো. ইসমাইল হোসেন দিদার। তিনি উপজেলার আমিশাপাড়া বাজারের একজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী। বর্তমানে তাকে রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি পরিবারের।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম আমিশাপাড়া বাজারে একটি বেকারির ব্যবসা করতেন। সুদের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে বাজারের জনসম্মুখে ‘সুদি নান্টু’ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে আব্দুর রহিমকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে একটি দোকানে আটকে রাখা হয়। এ সময় বাজারের আরেক ব্যবসায়ী দিদার কৌশলে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে আব্দুর রহিম অসুস্থ হয়ে মাইজদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতের পরিবার প্রথমে বিষয়টি স্ট্রোকজনিত মৃত্যু বলে ধারণা করলেও জানাজার ঠিক আগে দিদারের কাছ থেকে হামলার ঘটনা জানতে পারেন। এরপর লাশ দাফন স্থগিত রেখে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) লক্ষ্মীপুরের মতলবপুরে নিহতের দোয়া অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যরা জানান, মামলায় মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দিদারকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা তাকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। নিহতের বোনের জামাতা বাবুল ও স্বজন মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা তাকে সাক্ষী করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সাক্ষী না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাকে আসামি করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তিনি রাজসাক্ষী হলে সহযোগিতা করা হবে।” মামলার এজাহারে সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে, তারা সবাই লক্ষ্মীপুর সদরের বাসিন্দা এবং ঘটনার সময় আমিশাপাড়া বাজারে উপস্থিত ছিলেন না বলেও পরিবারের ভাষ্য।

এদিকে গ্রেপ্তার দিদারের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার মিতু অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী একজন আহত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে আজ কারাগারে। এর ফলে তিনি শিশু সন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে নির্দোষ মানুষদের ফাঁসানো হলে ভবিষ্যতে কেউ আর বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে না।”

অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি বেলাল হোসেন ওরফে সুদি নান্টু এখনও পলাতক রয়েছেন। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তারা মোবাইল ব্যবহার না করায় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর