প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

সোনাইমুড়ীতে অবৈধ নির্মাণ ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :
সোনাইমুড়ীতে খাল দখল করে কালভার্ট নির্মাণে ও সড়ক দখল করে নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাত। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সোনাইমুড়ী চৌরাস্তা সোনাইমুড়ী-ছাতারপাইয়া খালের উপরে অবৈধ ভাবে চলমান কাজ বন্ধ করে দেন তিনি। এর আগে সকালে নোয়াখালী-কুমিল্লা মহাসড়কের দুই পাশে নির্মাণসামগ্রী রেখে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় একজনকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাইমুড়ী চৌরাস্তার জোড়পোল সংলগ্ন খালের ওপরে গত সপ্তাহ থেকে অবৈধ ভাবে কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজের দুই পাশের সোনাইমুড়ী থেকে ছাতারপাইয়া ও সোনাইমুড়ী থেকে চাষীরহাটের পানি নিষ্কাশনের দুটি খালের সংযোগ মাটি ফেলে বন্ধ করা হয়।

সোনাইমুড়ী-ছাতারপাইয়া এবং সোনাইমুড়ী-কুমিল্লা সড়কের ওপরে নির্মিত দুটি কালভার্টের পাশেই তৈরী করা হচ্ছিলো কালভার্টটি। এছাড়া নোয়াখালী-কুমিল্লা মহাসড়কের ওপরে ইট, বালি, রড, সিমেন্ট রেখেই চলছিলো নির্মাণ কাজ।
জানা যায়, কামাল হোসেন নামের এক প্রবাসী কাজটি করাচ্ছেন। কাজের তদারকি করছেন তার ভাতিজা রাজু। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নোয়াখালী জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার ইমরান হোসেন সাক্ষরিত একটি লিজের কাগজের ওপরে ভিত্তি করে তারা এই নির্মাণ কাজ করছেন। যেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালটির ৯৫০ বর্গফুট মোজাহেদ হোসেন, কামাল হোসেন ও কামরুল হোসেনের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে। তবে এই জমির ওপরে থাকা স্থাপনা চলতি বছরের জুলাইতে অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল  পৌঁছালে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি রয়েছে বলে জানালেও লিখিত কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হন কালভার্ট নির্মাণকারীরা। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন সড়কের ওপর নির্মাণ সামগ্রী রেখে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন দ্বীনে আলম জান্নাত। রাস্তার ওপর রাখা বালু, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী জব্দ করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এসময় সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ায় মদিনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযানের বিষয়ে কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাত বলেন, সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রেখে ব্যবসা করায় যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। এসকল অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সোনাইমুড়ী চৌরাস্তায় সরকারি খাল বন্ধ করে অবৈধ ভাবে কালভার্ট নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জনদূর্ভোগ রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর