প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

নোয়াখালী-১ আসনে দ্বিমুখী লড়াই খোকনের চ্যালেঞ্জ জহিরুল ইসলাম

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-১ সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। মাঠের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিপরীতে এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতা জহিরুল ইসলাম। নির্বাচনী সমীকরণে এই দ্বিমুখী লড়াই ভোটের রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

নোয়াখালী-১ আসনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন। দলীয় রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা, সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তাঁকে বরাবরই এগিয়ে রেখেছে। স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা তাঁর পক্ষে কাজ করেছে বলে মনে করেন তাঁর সমর্থকেরা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে জহিরুল ইসলামের সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী মাঠে নতুন হিসাব যোগ করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা, নিয়মিত গণসংযোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে তিনি দ্রুত পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও গ্রামভিত্তিক ভোটব্যাংকে তাঁর প্রভাব বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের।

চাটখিল ও সোনাইমুড়ী উপজেলার একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যে জহিরুল ইসলামের পক্ষে মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচার চোখে পড়ছে। এতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির কৌশল তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দৃশ্যমান করেছে। অপরদিকে ব্যারিস্টার খোকনের বসে নেই; পুরোনো সমর্থন কাঠামোকে আরও সক্রিয় করতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে নামানো হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা ব্যক্তি ইমেজের পাশাপাশি উন্নয়ন, প্রতিনিধিত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এই তিন বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই জায়গায় দুজন প্রার্থীই নিজেদের মতো করে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ব্যারিস্টার খোকন তাঁর অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরছেন, আর জহিরুল ইসলাম পরিবর্তন ও নতুন নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি সামনে আনছেন।
একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, খোকন সাহেব পরিচিত মুখ, কিন্তু নতুন প্রার্থী হিসেবে জহিরুল ইসলামের কথা-বার্তাও মানুষ শুনছে। শেষ পর্যন্ত কে মানুষের আস্থা বেশি অর্জন করতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়।

তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় মনোনয়ন, জোটের হিসাব এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত সব মিলিয়েই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারিত হবে। তবু মাঠপর্যায়ের বর্তমান চিত্র বলছে, নোয়াখালী-১ আসনে একতরফা নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের জন্য এবারের লড়াই সহজ নয়। আর জহিরুল ইসলামের জন্য এটি নিজেকে প্রমাণ করার বড় সুযোগ। ভোটের বাক্সে শেষ সিদ্ধান্ত দেবেন সাধারণ ভোটাররাই।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর