প্রকাশিত: ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়া ঠেকাতে বিভিন্ন অংশীজনদের দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য- ড. সাজ্জাদ

জাতীয় নিরাপত্তা
ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়া ঠেকাতে বিভিন্ন অংশীজনদের দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য

যখন একটি সরকার তার ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, সেবা প্রদানে অক্ষম হয়, নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারে না এবং বৈধতা ধরে রাখতে পারে না, তখন দেশটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। যখন একটি সরকার তার ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, সেবা প্রদানে অক্ষম হয়, নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারে না এবং বৈধতা ধরে রাখতে পারে না, তখন দেশটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ব্যর্থতার এ পথ সচরাচর আকস্মিক হয় না। এ ধরনের রাষ্ট্রের উদ্ভব হয় যখন একটি সরকার তার মৌলিক দায়িত্বগুলো (যেমন মৌলিক নিরাপত্তা প্রদান, বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো বজায় রাখা, অথবা অত্যাবশ্যক সেবা প্রদান) সম্পাদন করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, যখন প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জনআস্থা ভেঙে যায়। গত দুই দশকে একটি”স্থিতিশীল থেকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুততর হয়েছে। যে দেশগুলো আজও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে রয়ে গেছে: হাইতি, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের মতো দেশগুলোকে ব্যাপকভাবে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ দেশগুলোর বর্তমান “ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি কোনো একটি একক ঘটনার ফল নয়; বরং এটি শতাব্দী প্রাচীন ধারাবাহিক স্বৈরতন্ত্র, একটি সংকীর্ণ শাসকগোষ্ঠী, বহিঃশক্তির শোষণ, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, দুর্বল নিরাপত্তা বাহিনী, বর্জনমূলক রাজনীতি এবং ভৌগোলিক দুর্ভাগ্যের এক পুঞ্জীভূত ফলাফল।

বাস্তবতা হলো, একনায়কতন্ত্র বা স্বৈরাচার-পরবর্তী যুগ একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তৈরি করতে পারে না। বরং বিভক্ত এলিট শ্রেণী ও রাজনৈতিক দলগুলো দুর্বল কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিতে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। যখন সংসদ স্থগিত হয়ে পড়ে এবং নির্বাচন বিলম্বিত বা বিতর্কিত হয়, তখন নির্বাহী বিভাগ ক্রমবর্ধমানভাবে আদেশ/ডিক্রি দ্বারা শাসিত হয়, যা বৈধতা আরো ক্ষুণ্ন করে এবং একটি শূন্যতার সৃষ্টি করেযা পরবর্তী সময়ে নৈরাজ্য দিয়ে পূর্ণ হয়। বহিরাগত অংশীদাররা একটি অস্পষ্ট ভূমিকা পালন করে, কখনো কখনো দেশকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে, কিন্তু প্রায়ই দেশের ভঙ্গুরতাকে আরো গভীর করে তোলে । হাইতিকে ব্যাপকভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়, কারণ তার সরকার আর দেশের অধিকাংশ ভূখণ্ডে মৌলিক নিরাপত্তা, সেবা বা বৈধ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রদান করতে সক্ষম নয় ।

এ পরিস্থিতি একদিনে সৃষ্টি হয়নি; বরং দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বহিরাগত শোষণ, দেশীয় এলিটদের স্বার্থপরতা, পুনরাবৃত্ত স্বৈরশাসন এবং বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত দুভালিয়ে পরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একনায়কতান্ত্রিক শাসন দমন-পীড়ন, দুর্নীতি এবং ব্যক্তিগত মিলিশিয়ার ওপর নির্ভর করে শাসন করেছিল, যা নিয়মিত সেনাবাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন এবং বিচার ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে দুর্বল করে দেয়। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও কার্যকর সংসদের অনুপস্থিতি, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন না হওয়া এবং বারবার নির্বাচন স্থগিতের ফলে হাইতি এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে এর কোনো সম্পূর্ণ বৈধ কেন্দ্রীয় সরকার নেই। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটি প্রাতিষ্ঠানিক ভাঙনের এমন এক অবস্থায় রয়েছে, যেখানে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিই দায়িত্বে নেই। সোমালিয়ার ব্যর্থ রাষ্ট্রে রূপান্তর কোনো একক ঘটনার ফল নয়; এটি ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি। সোমালিয়া কীভাবে ব্যর্থ হলোড়তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল ছিল মোহাম্মদ বারির ২১ বছরের একনায়কতন্ত্র।

সোমালিয়া একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। কারণ এটি ঐতিহ্যগতভাবে বিকেন্দ্রীভূত এবং গোষ্ঠীভিত্তিক সমাজের ওপর একটি অনমনীয়, কেন্দ্রীভূত সরকার চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠী, বৈদেশিক নির্ভরতা এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কাঠামোর জায়গা দখল করে নিয়েছে। দুর্নীতি, দুর্বল নিরাপত্তা বাহিনী, অসামঞ্জস্যপূর্ণ কেন্দ্রীয়-আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং একচেটিয়া রাজনীতির মতো স্থায়ী সমস্যাগুলো সোমালিয়াকে এমন এক ভঙ্গুর পথে আটকে রেখেছে; যেখানে রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি থাকলেও সেগুলো প্রায়ই এতটাই দুর্বল যে ব্যর্থ রাষ্ট্রের উত্তরাধিকারকে পুরোপুরি অতিক্রম করতে পারছে না। অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো ইয়েমেনও একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে কোনো একটি ঘটনার ফলাফল নয় বরং কয়েক দশক ধরে কাঠামোগত দুর্বলতা, ব্যর্থ রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং একটি ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধের পরিণতি। ৩৩ বছর ধরে আবদুল্লাহ সালেহ দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ শাসন করেন।

বর্তমানে দেশটি বিভক্তড়উত্তরে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকা, দক্ষিণ ও পূর্বের কিছু অংশে ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত’ সরকার এবং দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা কামী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের মধ্যে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটের কেন্দ্রস্থল হিসেবে রয়ে গেছে, যেখানে রাষ্ট্র কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে বিভক্ত। আরব বসন্তের বিক্ষোভ একসময় গৃহযুদ্ধে রূপ নেয় যখন তেলসমৃদ্ধ লিবিয়ার স্বৈরাচারী গাদ্দাফি শাসনগোষ্ঠী (১৯৬৯-২০১১) সহিংসভাবে গণ-অভ্যুত্থান দমনে লিপ্ত হয়, যা শেষ পর্যন্ত মানবিক সহায়তার অজুহাতে ন্যাটোর হস্তক্ষেপকে ত্বরান্বিত করে। গাদ্দাফি শাসনগোষ্ঠীর পতনের ফলে দেশটি একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে, যার বৈশিষ্ট্য হলো আইন-শৃঙ্খলার ভেঙে পড়া, ঐক্যবদ্ধ কেন্দ্রীয় সরকারের অনুপস্থিতি, ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো। লিবিয়ার তেলসম্পদ দখলকে কেন্দ্ৰ করে সংঘাতের কারণে অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়া। লিবি- য়া এখন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর (যেমন তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ফ্রান্স, রাশিয়া ইত্যাদি) জন্য একটি প্রক্সি যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও ভাড়াটে যোদ্ধা দিয়ে সমর্থন করছে। একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে সুদানের বর্তমান অবস্থা দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যাঊস্বরাচারী শাসন, বর্জনমূলক রাজনীতি এবং দুর্নীতিরই ফল। আল-বশিরের ৩০ বছরের শাসনকাল (১৯৮৯-২০১৯) এমন একটি স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করেছিল, যা বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে অসার বা অন্তঃসারশূন্য করে ফেলেছিল। ২০১৯ সালে ওমর আল-বশিরের উৎখাতের ফলে বেসামরিক নেতৃত্বাধীন সংস্কারের সুযোগ তৈরি হয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সুদান গণতন্ত্রে উত্তরণের বদলে সম্পূর্ণ অরাজকতায় নিমজ্জিত হয়। দেশের কেন্দ্রীয় সরকার তার ভূখণ্ডের বড় অংশজুড়ে নিরাপত্তা, মৌলিক সেবা ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হারিয়ে ফেলেছে। বাস্তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে; আদালত ও মন্ত্রণালয়গুলো বন্ধ এবং নাগরিকরা পাসপোর্ট, জন্ম বা মৃত্যু সনদের মতো নথিপত্রও সংগ্রহ করতেও সক্ষম হচ্ছেন না। সিরিয়ায় আসাদ শাসনগোষ্ঠী (১৯৮৮-২০২৪) একটি স্বৈরাচারী, উচ্চমাত্রায় কেন্দ্রীভূত এবং প্রায়ই সাম্প্রদায়িক নিরাপত্তা রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল; যা দমন- পীড়ন এবং একটি সংকীর্ণ শাসকগোষ্ঠীর সমন্বয়ে কয়েক দশক ধরে শাসনের বৈধতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার এখনো বৈধভাবে শক্তি প্রয়োগের ওপর তার একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি এখন আর মৌলিক জনসেবা প্রদান করতে পারছে না এবং নিজের জনগণের পক্ষে সামষ্টিক সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো কর্তৃত্বও তার নেই। বাংলাদেশের জন্য ব্যর্থ রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়: রাষ্ট্রের ব্যর্থতা কোনো রাতারাতি ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। কিছু নির্দিষ্ট ও বাস্তব সূচক রয়েছে, যা দেখায় একটি রাষ্ট্র ব্যর্থতার দিকে কতটা অগ্রসর হয়েছে। এ দেশগুলোর পতনকে প্রধানত তিনটি বৃহত্তর ব্যর্থতার ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যেতে পারে: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক । একটি স্থিতিশীল স্বৈরশাসন থেকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট এবং সহিংস পথ অনুসরণ করে। যখন কোনো দেশের সরকার আর মৌলিক নিরাপত্তা এবং জনসেবা প্রদান করতে সক্ষম থাকে না, তখন তাকে ব্যাপকভাবে ব্যর্থ রাষ্ট্র বলে বর্ণনা করা হয়। বাংলাদেশ কোনো ব্যর্থ রাষ্ট্র নয়, কারণ এর মূল কার্যক্রমগুলো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েনি। রাষ্ট্রের ব্যর্থতার সবচেয়ে সরাসরি পথ হলো আইনের শাসন সমুন্নত রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো পদ্ধতিগতভাবে ভেঙে ফেলা বা দুর্বল করে দেয়া। হাসিনা সরকার ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এবং পুনরায় ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শাসন করেছিল।

হাসিনা সরকারের ক্ষমতার একচেটিয়াকরণ, আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করা, আদালত ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করার বাস্তবতা স্পষ্ট। ফলস্বরূপ, দুর্নীতি বিরামহীনভাবে বেড়ে ওঠে এবং সরকার জনস্বার্থের রক্ষকের পরিবর্তে ব্যক্তিগত লাভের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটায় এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দুর্ভাগ্যবশত, এ সরকার মাঠ পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে এবং জনগণকে মানসম্মত সেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। দুর্বল শাসন ব্যবস্থা ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে, যার ফলে নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর আস্থা হারাচ্ছে। দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে ভঙ্গুর করে তুলছে; যার ফলে রাষ্ট্রটি একটি বহুমুখী ও উৎপাদনশীল অর্থনীতির পরিবর্তে প্রবাসী শ্রমিক ও সীমিত কয়েকটি খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ কি বর্তমানে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের প্রায় সব মানদণ্ড পূরণ করছে? দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশে এটি বিভিন্নভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম ব্যক্তিত্ব শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পর সমগ্র বাংলাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে । অন্তর্বর্তী সরকার হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের একজন সম্মুখসারির যোদ্ধার মৃত্যুর পর রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশের সংবাদপত্রগুলোয় অগ্নিসংযোগ করা হয়, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় হামলা চালানো হয় এবং সাংবাদিকরা আক্রমণের শিকার হন।

এসব ঘটনা আইনের শাসন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাকেই প্রতিফলিত করে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ গণতন্ত্রে উত্তরণের বদলে সম্পূর্ণ নৈরাজ্যের দিকে নিমজ্জিত হবে না। একটি রাষ্ট্র কীভাবে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়ড়এ প্রক্রিয়া বোঝা বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করা উচিত। নাগরিকরা যখন তাদের সরকারকে অন্যায্য, দুর্নীতিগ্রস্ত বা অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে করে, তখন তারা তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সম্ভবত এটিই ঘটছে বলেই মনে হতে পারে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাগজে-কলমে এখনো বিদ্যমান থাকলেও সেগুলো আর সততা এবং কার্যকরভাবে কাজ করছে না। সরকার বৈধতার পতনই একটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার চূড়ান্ত মুহূর্ত (টিপিং পয়েন্ট) চিহ্নিত করে। যেহেতু বাংলাদেশের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ঐক্যবদ্ধ এবং সুশৃঙ্খল রয়েছে এবং বাংলাদেশ তার সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি, তাই দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করার যেকোনো ষড়যন্ত্র অভ্যন্তরীণ হোক বা বহিরাগতড়সফল হবে না। রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজ রাজনৈতিক সহিংসতা এবং রাষ্ট্রের ব্যর্থতা প্রতিরোধে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাদের একটি ভূমিকা রয়েছে। অন্যথায় বাংলাদেশ কোন পথে যাবে, সময়ই বলে দেবে।

ড. সাজ্জাদ মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন-
কেজ বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক এবং জিওপলিটিকস স্ট্র্যাটেজি ল্যাবের (ফ্রান্স) প্রধান

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর