প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫

কোম্পানীগঞ্জে ভয়াবহ গ্যাস সংকট

উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ :
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চলমান তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে বাসাবাড়িতে দিনের বেলায় চুলা জ্বলছে না—এমনকি অনেক সময় রাতেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় পরিবারগুলোকে মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে রান্না করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন গৃহিণীরা, ছোট শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা। অনেক বাড়িতে শিশুরা ঠান্ডা খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে, বয়স্করা গরম পানি না পেয়ে শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত সোমবার থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। আগের রাতে মাইকিং করে জানানো হয়েছিল যে পরের দিন গ্যাস থাকবে না। তাই অনেকে রাতেই রান্না সেরে রেখেছিলেন। কিন্তু দিনের বেলায় গ্যাস না আসায় খাবার গরম করার কোনো উপায় ছিল না। এতে অনেক পরিবারকে বিপাকে পড়তে হয়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ছাদে ইট বসিয়ে অথবা মাটির চুলায় কাঠ-খড়ি জ্বালিয়ে রান্না করছেন। আবার অনেকে দুপুরের খাবারের জন্য হোটেল-রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভর করছেন। ফলে স্থানীয় হোটেলগুলোতে দীর্ঘ লাইন পড়ে যাচ্ছে এবং খাবারের দামও বেড়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বুধবারও গ্যাস না আসায়। রবিবার বিকেলে মাইকিং করে সোমবার গ্যাস থাকবে না বলা হলেও বুধবার পর্যন্ত সরবরাহ না ফেরায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এতে জনজীবনের পাশাপাশি প্রাত্যহিক কাজকর্ম, বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ যাওয়া, বয়স্কদের ওষুধ গরম করা—সবকিছুতেই মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতের এই সময়ে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য গরম খাবার ও গরম পানির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেক পরিবারে শিশুরা ঠান্ডা খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এক গৃহিণী জানান, “দিনে গ্যাস না থাকলে রাতে রান্না করে রাখি, কিন্তু সকাল-দুপুরে গরম করতে পারি না। বাচ্চারা কাঁদে, বয়স্করা অসুস্থ হয়ে যান। এভাবে আর কতদিন চলবে?”

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বসুরহাট অফিসে দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী আমান উল্যাহ বলেন, “বর্তমানে সারাদেশেই গ্যাস সংকট রয়েছে। ফেনী এলাকায় ট্রান্সমিশন লাইনে কাজ চলায় সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”
স্থানীয়রা দাবি করছেন, এ ধরনের সংকট যেন আর না ঘটে সেজন্য স্থায়ী সমাধান দরকার। অনেকে বলছেন, গ্যাস না থাকলে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা উচিত, অথবা লোডশেডিং-এর মতো নির্দিষ্ট সময়সূচি দিয়ে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। দ্রুত সমাধান না হলে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

এদিকে, দেশব্যাপী গ্যাস সংকটের প্রেক্ষাপটে কোম্পানীগঞ্জের এই দুর্ভোগ আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও গ্যাস কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর