প্রকাশিত: ২ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০২৬

দাগনভূঞায় আগুনে পুড়ে ১২ দোকান ছাই

উপজেলা প্রতিনিধি, দাগনভূঞা :
দাগনভূঞায় আগুনে পুড়ে ১২ দোকান ছাই হয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে সাতটার দিকে দাগনভূঞা পৌর শহরের চৌমুহনী রোডের কামারগলি। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি প্রায় ২ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, ওইদিন সকাল পৌনে সাতটার দিকে বন্ধ থাকা একটি দোকান থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আগুনের লেলিহান শিখা এতই তীব্র ছিল যে মুহূর্তে পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত পাটোয়ারী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোক্তার হোসেন জানান, ওইদিন আমার দোকান বন্ধ ছিল। সকাল সাতটার দিকে খবর পেয়ে দেখি দোকানে আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মাধবী ফ্লাওয়ারস ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের স্বত্বাধিকারী সাইমুন হক রাজীব জানান, আগুনে পুরো দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জননী মেডিকেলের স্বত্বাধিকারী প্রণজিৎ আচার্য্য রাহুল জানান, আগুনে পুরো দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ১৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শাহজাহান লাইট হাউজ ও কুঠির শিল্পের স্বত্বাধিকারী মোঃ শাহজাহান জানান, আগুনে পুরো দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ২৬ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ইব্রাহীম কুঠির শিল্পের স্বত্বাধিকারী মোঃ ইব্রাহীম জানান, আগুনে পুরো দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ২৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হারুন এন্টারপ্রাইজ (কনফেকশনারি ও স্টেশনারির)  স্বত্বাধিকারী মোঃ নিজামুল হক হারুন জানান, আগুনে পুরো দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ডেল্টা লাইফ ইন্সুইরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের (গণ-গ্রামীন বীমা ডিভেশনের) ম্যানেজার মোঃ হামিদুল হক জানান, আগুনে পুরো অফিস পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জসিম স্টোর (মালামাল গুদাম ও গোডাউন) স্বত্বাধিকারী মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, আগুনে পুরো মালামালসহ গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হাজী রাজ্জাক কুঠির শিল্পের স্বত্বাধিকারী মীর হোসেন জানান, আগুনে পুরো দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ৩ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চা দোকানদার নিরঞ্জন দেবনাথ জানান, আগুনে পুরো দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে ফেনী ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ও পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও আগুনের লেলিহান শিখা এতই তীব্র ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে ১২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ফেনী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহীদুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণের সাথে কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, অত্র উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে ৩৩ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বাকি ৬৭ শতক জায়গা অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে যা অতিদ্রুত শেষ করার জন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে। অধিগ্রহণকৃত ৩৩ শতক জায়গাতে কাজ শুরু করা যায় কিনা সে বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর