প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৪ জানুয়ারি, ২০২৬

অভিজ্ঞতা, আদর্শ, স্থানীয়তা নোয়াখালী-১ এর ত্রিমুখী যুদ্ধ

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :
নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) সংসদীয় আসনটি বরাবরই জাতীয় রাজনীতির হট সিট হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করলেই এই জনপদ সরগরম হয়ে ওঠে। এখানকার ভোটারদের মনস্তত্ত্ব বেশ জটিল তারা যেমন দলীয় প্রতীকের অনুসারী, তেমনি প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও এলাকার সঙ্গে নাড়ির টানকেও সমান গুরুত্ব দেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই চিরচেনা সমীকরণই ফের সামনে এসেছে। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মাঠে মূল লড়াই আবর্তিত হচ্ছে তিন মেরুকে কেন্দ্র করে বিএনপির ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. ছাইফ উল্যাহ।

ব্যারিস্টার খোকন. অভিজ্ঞতা ও জাতীয় রাজনীতির ইমেজ তিন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের। নবম জাতীয় সংসদে আসনটির প্রতিনিধিত্ব করা এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী মুখ। শিক্ষিত ও সচেতন ভোটারদের কাছে তার পাণ্ডিত্য ও জাতীয় পর্যায়ের ওজনে তিনি অন্যদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে।

হলফনামা অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ ও আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ়। যদিও একাধিক মামলা তার নামের পাশে রয়েছে, তবে সমর্থকদের দাবি এগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল এবং অধিকাংশই এখন নিষ্পত্তির পথে। তবে তার সামনে চ্যালেঞ্জ একটাই জাতীয় রাজনীতির ব্যস্ততার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিতির দাবি। তরুণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, গ্রামীণ পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ আরও বাড়াতে পারলে তার অবস্থান হবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম এবার বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। প্রবাসী জীবনে সিআইপি মর্যাদা এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ করে নির্বাচনে আসা তার রাজনৈতিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও ‘মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয়তা সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে জহিরুল ইসলামের বড় শক্তি ‘নীরব ভোটার’। যারা প্রথাগত রাজনীতির বাইরে থেকে পরিবর্তন চান এবং যারা শহর ও প্রবাস-সম্পৃক্ত পরিবার থেকে এসেছেন, তাদের মধ্যে জহিরুল ইসলামের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। হলফনামায় উল্লেখিত তার বিপুল সম্পদও নির্বাচনি আলোচনায় তাকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। মাওলানা মো. ছাইফ উল্যাহ এই লড়াইয়ে মাটির মানুষ হিসেবে পরিচিত। চাটখিলের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে তার রয়েছে গভীর স্থানীয় শিকড়। ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কাজে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাকে গ্রামাঞ্চলে বিপুল পরিচিতি দিয়েছে।

সম্পদ বা আর্থিক প্রতিপত্তি কম থাকলেও এই ‘সাধারণ জীবনযাপনই’ তার জন্য তুরুপের তাস হয়ে উঠেছে। গ্রামীণ ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠী এবং আলেম সমাজের ভোট ব্যাংকে তার অবস্থান অত্যন্ত মজবুত। ভোটারদের একাংশের মতে, তিনি আমাদেরই লোক’এই আবেগ তাকে ভোটের মূল দৌড়ে টিকিয়ে রেখেছে। চাটখিল ও সোনাইমুড়ীর অলিগলি থেকে শুরু করে চায়ের দোকানে সবখানেই এখন গাণিতিক হিসেব-নিকেশ। একদিকে ব্যারিস্টার খোকনের অভিজ্ঞতা ও জৌলুস, অন্যদিকে জহিরুল ইসলামের আদর্শিক ভাবমূর্তি, আর মাওলানা ছাইফ উল্যাহর স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, সমীকরণ ততই জটিল হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জয় হবে, নাকি নতুনের কেতন উড়বে, তা নির্ভর করছে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি এবং ‘নীরব ভোট’ কোন বাক্সে পড়ে তার ওপর। চাটখিল-সোনাইমুড়ীর রাজনৈতিক ভাগ্য এখন ব্যালটের অপেক্ষায়।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর