
নুশরাত রুমু, মাইজদী :
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মজুত পর্যাপ্ত থাকার পরও বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে নোয়াখালীতেও এলপি গ্যাসের এই সংকট ডিলারদের জীবিকা অনিশ্চিত করে তুলেছে। একই সঙ্গে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সরবরাহ সংকটের সুযোগে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে। কোথাও জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে তাতেও বাজার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একের পর এক এলপি গ্যাস বিক্রির ডিপো বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অনেক পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে বাসায় বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
একদিকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না, অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এই দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন বিক্রেতারা। ফলে গ্যাস না থাকলেও আতঙ্কে দোকান খুলতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। সরবরাহ সংকট ও প্রশাসনিক অভিযানের মধ্যে পড়ে চরম দিশেহারা অবস্থায় দিন পার করছেন এলপি গ্যাস বিক্রেতারা।
শহরের এলপি গ্যাস ডিলার মো. রায়হান। তিনি বলেন, ৩০০ পিস ধারণক্ষমতার ট্রাক পাঠিয়ে এখন ১০০ থেকে ১২০ পিস গ্যাস আনতে হচ্ছে। তাও অনেক দিন অপেক্ষার পর। এতে পরিবহন খরচ উঠে না, লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই সংকট অব্যাহত থাকলে থমকে যাবে ব্যবসা-বাণিজ্য। এটি শুধু একটি খাতের নয়, বরং দেশের অর্থনীতির জন্যও অশনিসংকেত।
সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক ডিলার দোকানপাট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কর্মচারীরাও পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
একই অভিযোগ বেসরকারি চাকরিজীবী শাহ জাহান মিয়ার। তিনি বলেন, সরকারি গ্যাসের টালবাহানা হয়। সারাদিন গ্যাস থাকে না। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এলপিজি গ্যাস বিক্রি করতে হবে। নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের তথ্য জেলা প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে জানাতে অনুরোধ জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :