প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জ দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাবেক চেয়ারম্যানসহ আহত – ১০

উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ :
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই বিবদমান গ্রুপের মধ্যে টানা দুই দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের জেরে পুরো ইউনিয়নজুড়ে আতঙ্ক, উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
রোববার ও সোমবার সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে যৌথ অভিযান ও তল্লাশি চালায়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন চরএলাহী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, মামুন, হেলাল, খোকন, সোহেল ও ইসমাঈলসহ আরও কয়েকজন। গুরুতর আহত সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চরএলাহী ইউনিয়নে বর্তমানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি শক্তিশালী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন তোতার ছেলে ইব্রাহিম তোতা, ইসমাঈল তোতা ও বাহাদুর। অপর গ্রুপটির নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিএনপি নেতা শাহাব উদ্দিন।
উভয় গ্রুপই বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব ফখরুল ইসলামের পক্ষে প্রচারণা চালালেও প্রচারণার নিয়ন্ত্রণ ও দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর ফলে গত দুই দিনে একাধিকবার উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

আহত সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,“আমি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব ফখরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করায় আবদুল মতিন তোতা চেয়ারম্যানের ছেলেরা আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় আমার মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

তিনি এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতির কথাও জানান। অন্যদিকে ইসমাঈল তোতা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন,“মোস্তাফিজ মেম্বার ও শাহাব উদ্দিন গ্রুপ আমার বাবার হত্যাকারীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।

এ নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সোমবার সকালে বাদামতলী বাজারে আমাদের লোকজনকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি মীমাংসার জন্য একা বৈঠকে গেলে আমার ওপরও হামলা চালানো হয়।”
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন,“সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এদিকে, চলমান সহিংসতায় চরএলাহী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর