প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও ইউডিসিতে নতুন উদ্যোক্তা নিয়োগ, বারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের চুক্তিবদ্ধ উদ্যোক্তাদের সরিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে নতুন উদ্যোক্তা নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোনাইমুড়ী উপজেলার ৪ নম্বর বারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইয়েদ আহমদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা (ইউডিসি) আব্দুর রহমান।

জানা যায়, দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর আদালতের রায়ে বারগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদ। গত ২৭ জানুয়ারি নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। ওই দিনই ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে দুজনের সঙ্গে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন।

নতুন সেই চুক্তিপত্রে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ফেরদৌস বেগমের স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে ইউডিসি হিসেবে চুক্তির মাধ্যমে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বারগাঁও ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের ফয়সাল আহমদ ও দক্ষিণ পেয়ারাপুর গ্রামের উম্মে হানী আসমাকে।

বর্তমান ইউডিসি আব্দুর রহমান দাবি করেন, তিনি সরকারি নিয়ম মেনে গত বছরের জুন মাসে পাঁচ বছরের মেয়াদে চুক্তি সম্পাদন করেন, যা তখনকার চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার অনুমোদনপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই নতুন চেয়ারম্যান মৌখিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন, যা আইনবিরোধী।

২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি অনুযায়ী, উদ্যোক্তা পরিবর্তনের ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসকের হাতে। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনা নির্দেশিকায় বলা আছে, চুক্তির মেয়াদকালে নতুন উদ্যোক্তার সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না।

তবে চেয়ারম্যান সাইয়েদ আহমদ দাবি করেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় ইউনিয়নে কোনো উদ্যোক্তা ছিল না। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন উদ্যোক্তা নিয়োগ দেওয়াই স্বাভাবিক।”

কিন্তু আইন অনুযায়ী, ইউডিসি বিষয়ক সিদ্ধান্ত ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমে রেজুলেশনভুক্ত করতে হয়। এককভাবে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিধান নেই।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আকতার জানান, নতুন উদ্যোক্তা নিয়োগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না, তার কাছে কোনো রেজুলেশনও আসেনি।

এ বিষয়ে উপপরিচালক ফেরদৌস বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে কল কেটে দেন এবং পরে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর