প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

হাতিয়ায় নারী ধর্ষণের বিষয়ে সত্যতা পায়নি প্রশাসন, তদন্ত কমিটি করার সিদ্ধান্ত

?????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর :
হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সী এক নারী দাবি করেন, নির্বাচনে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায়‌ ভোটের পর  শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তাদের ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়। একজন তাকে ‘ধর্ষণ’ করে এবং বাকি দুজন পাহারা দেয়।
ভুক্তভোগী নারী হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা, তিন সন্তানের জননী।

অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপিকর্মী  রহমান ভিডিও বার্তায় দাবি করে , হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নে যে সময় ধর্ষণের কথা বলা হচ্ছে, (রাত সাড়ে দশটায়) তিনি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, কারণ ‘শাপলা কলির পক্ষে কাজ করতে রাজি না হওয়ায়’ তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি কথায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়।

দৈনিক নোয়াখালী কথা পক্ষ থেকে সরেজমিনে সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায় মারামারি রেজিস্ট্রার খাতায়  ৮০৭/৪৬ নম্বরে রাত ১০.৩০ মিনিটে রহমান হোসেনের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।
বিস্তারিত জানতে গেলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মারামারির ঘটনায় চিকিৎসা নিতে এক নারীসহ কয়েকজন শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালে আসেন। তিন ঘণ্টা পর বিকাল ৫টায় ওই নারী পুনরায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা বলেন।
তবে এখন পর্যন্ত মামলা না হওয়ায় ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষা করাতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মারামারি ও ধর্ষণ, দুটিই ‘পুলিশ কেইস’ হওয়ায় ওই নারীকে হাসপাতালের লেবার কমপ্লেক্সে রাখার কথা বলেন ডা. ফরিদ।

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা  ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছি। এখানে একজন নারী এসআই ও একজন এএসআইয়ের নেতৃত্বে পাঁচজন কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে।

পরে পুলিশের ভাষ্য মতে জানা যায় , প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে দুই দফা মারামারির তথ্য পাওয়া গেলেও ধর্ষণের বিষয়ে স্থানীয়দের কেউ কিছু বলতে পারেননি। হাসপাতালে ওই নারীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রেও দুই রকম তথ্য রয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার সময় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া সার্কেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন। তিনি রাতে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে দশটায় পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন।

ঘটনার অবস্থা বিবেচনায় জাতীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ওই নারীর সাথে মোবাইলে কথা বলে আইনী সহযোগীতাসহ সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিকেলে গণমাধ্যমকে হাতিয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর