প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে রমজানে বেসামাল বাজার, সরবরাহ স্বাভাবিক তবুও চড়া দাম

উপজেলা প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ :
কোম্পানীগঞ্জে পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সপ্তাহজুড়ে কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। লেবু, বেগুন, খিরা, কাঁচামরিচ, লাউ, কুমড়া, করলা, ফুলকপি, পাতাকপি, লালশাক, ডাটা ও ধনিয়া পাতার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ পণ্যের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি আরও বেশি।

এক সপ্তাহ আগেও যে বেগুন ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খিরা/মারপা ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় উঠেছে। কাঁচামরিচের দামও বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় লেবুর দাম। আগে প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হওয়ায় লেবুর চাহিদা বাড়তেই এমন দাম বলে ধারণা করছেন অনেকে।

বাজারে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। তারা জানান, প্রতিবছরই রমজান শুরুর আগে বা শুরুতেই বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেন। এক ক্রেতা বলেন, এক সপ্তাহ আগেও যে বাজার ৮০০ টাকায় করা যেত, এখন একই জিনিস কিনতে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা লাগছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য এটা খুবই কষ্টকর।

আরেকজন বলেন, রমজানে সংযমের কথা বলা হয়, কিন্তু বাজারে গিয়ে আমরা উল্টো চাপে পড়ছি। সংসারের হিসাব মিলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

তবে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, রমজান শুরুর আগেই পাইকারি বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এক বিক্রেতা বলেন, আমরা বেশি দামে কিনছি, তাই কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করছি। সরবরাহে সমস্যা নেই। পাইকারি দর কমলে খুচরা বাজারেও দাম কমে আসবে।

সচেতন মহলের মতে, বাজারে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিং থাকলে এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি এবং কঠোর ব্যবস্থা নিলে অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য কমবে বলে মনে করছেন তারা।
রমজানজুড়ে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। না হলে রোজার মাসে বাড়তি দামের চাপ তাদের নাভিশ্বাস তুলে দেবে বলেই আশঙ্কা করছেন তারা।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর