
উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : সদর উপজেলার ১৯ নম্বর পূর্ব চর মটুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর আলমকে আটক করার পর থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৫ মার্চ) রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে নূর আলম এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। রোববার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে এসেছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা তার বাড়ি ঘেরাও করেন। পরে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, থানায় নেওয়ার কিছু সময় পরই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নূর আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের দোকান লুট ও বসতঘর ভাঙচুরসহ ৮ থেকে ৯টি মামলা এবং যুবদল নেতা আবুল কালাম কালার বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২টি মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিএনপি নেতা সাইফুল্যাহ বোরহানের চারটি দোকান এবং চর মটুয়া বাজারের ২৪ জন ব্যবসায়ীর দোকান জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় করিম মেম্বারের ছেলে সোহাগ ও সুমনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নূর আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী সাইফুল্যাহ বোরহান ও আবুল কাশেম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নূর আলমের কারণে হয়রানির শিকার। তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়ায় আমরা হতাশ।”
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। কেউ লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় এবং তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো মামলা না থাকায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন :