প্রকাশিত: ২৯ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০২৬

২৯ মার্চ ছিল নোয়াখালী জেলার ২০৫তম জন্মদিন

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর :

২৯ মার্চ ছিল নোয়াখালীর জন্মদিন। ১৮২১ সালের এই দিনে এই ভূখণ্ডের প্রশাসনিক ইতিহাসে যুক্ত হয়েছিল এক গৌরবোজ্জ্বল নাম—নোয়াখালী। দুই শতাধিক বছর আগে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে যখন আজকের এই বিস্তীর্ণ জনপদ ‘ভুলুয়া’ নামে পরিচিত ছিল, ঠিক তখনই এক প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে এ অঞ্চলটি স্বতন্ত্র জেলার মর্যাদা লাভ করে। কালের বিবর্তনে ‘ভুলুয়া’ নামটি হারিয়ে গেলেও মেঘনার পলি আর বঙ্গোপসাগরের নোনা বাতাসে গড়ে ওঠা এই জেলা তার অদম্য মনোবল ও স্বকীয়তা দিয়ে ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে।

১৮২১ সালের আগে এই অঞ্চলটি তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে জলদস্যুদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র জেলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৮২১ সালের ২৯ মার্চ ভুলুয়া পরগনাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলা গঠিত হয়। শুরুতে এর সদর দপ্তর ছিল বর্তমান সুধারামের উত্তরে। তবে মেঘনার ভাঙন ও গঠনের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলার সীমানা ও সদর দপ্তরে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে।

১৮৬৮ সালে ‘ভুলুয়া’ নাম পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নোয়াখালী’ রাখা হয়। নামকরণ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে, প্রবল বন্যার সময় পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয়রা একটি ‘নয়া খাল’ খনন করেছিলেন। সেই ‘নয়া খাল’ থেকেই ‘নোয়াখালী’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।
২৯ মার্চ নোয়াখালীর ২০৫তম জন্মদিন উপলক্ষে পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায় এক সমৃদ্ধ জনপদের প্রতিচ্ছবি।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে এই জেলার মানুষ বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ে নোয়াখালীর বীর সন্তানদের অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও নোয়াখালীর মানুষের মেধা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর পাওয়া যায়। এ অঞ্চলের মানুষের আঞ্চলিক ভাষাভঙ্গি যেমন রসিকতার খোরাক জোগায়, তেমনি তাদের ঐক্যবদ্ধতা ও আতিথেয়তা এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

সময়ের পরিবর্তন সত্ত্বেও নোয়াখালীর আবেদন অমলিন। নিঝুম দ্বীপের চিত্রা হরিণ, গান্ধী আশ্রমের শান্ত পরিবেশ এবং বজরা শাহী মসজিদের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য আজও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কৃষিনির্ভর এই জেলার অর্থনীতিতে ধান ও উপকূলীয় অঞ্চলের নারিকেল-সুপারির বাগান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিকূল প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার এক অদম্য শক্তি এই জনপদের মানুষের অন্তরে প্রোথিত। জন্মদিন উপলক্ষে জেলাবাসীর প্রত্যাশা—ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আগামীর নোয়াখালী হয়ে উঠুক আরও আধুনিক, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ। ভালোবাসা সেই পুণ্যভূমিকে, যা আমাদের শিকড় ও পরিচয়।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর