প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বর্বরতা – মো. আবদুল ওহাব বাবুল

যুদ্ধ কেড়ে নেয় হাজার হাজার মানুষের ঘর বাড়ি,নিরাপরাধ মানবের প্রাণ।অসংখ্য  মানুষ কে অন্ধ,বিকলাঙ্গ ও পুষ্টিহীন করে পেলে। দীর্ঘ ফিলিস্তিন -ইসরাইল যুদ্ধ তার বড় প্রমাণ।যুদ্ধ সভ্যতার ধ্বংস সাধণ করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে।যুদ্ধের সবচেয়ে বড় পাওয়া দুর্ভিক্ষ আর বাস্তুচ্যুত হওয়া।যুদ্ধের কোণ ভালো ফলাফল আছে বলে আমার মনে হয় না।
সমগ্র বিশ্বে বিরাজমান এ অশান্ত অবস্থায় শান্তির পথ খোঁজা হচ্ছে দেশে দেশে।কোণ পথে শান্তি আর কোণ পথে মুক্তি তা আজ সকলের ভাবনা।তাই,আজকের বিশ্বে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন শান্তি, শান্তি এবং  শান্তি প্রতিষ্ঠা।

পৃথিবীতে যদি  যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়,তবে সুখ,সমৃদ্ধি,সভ্যতা ও সংস্কৃতি সবকিছু নিশ্চিত করা সম্ভব। পৃথিবীর সূচনা লগ্ন থেকে আল্লাহ তায়া’লার প্রেরিত নবী-রাসূলগণ যুদ্ধ,হিংসা থেকে শান্তি ও মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আল্লাহর  বানী প্রচার করেছেন।যুদ্ধ,হিংসা,দ্বন্দ্ব, সংঘাত আর রক্তপাত দিয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে না!তাই বর্তমান বিশ্বে চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া,ফিলিস্তিন-ইসরাইল,আরাকান -মায়ানমার ও সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধের অবসান হওয়া দরকার।

সমকালীন বিশ্বের মানচিত্রে চোখ বুলালেই লক্ষ্য করা যায়,ইসরায়েল নামক অবৈধ রাষ্ট্র এক জগদ্দল পাথর ফিলিস্তিনি মুসলমানদের তথা গোটা আরব বিশ্ব কে গ্রাস করতে বসেছে।১৯৪৮ সালে নাকবা বিপর্যয়ের মাধ্যমে অবৈধ বসতি গড়ে তুলে ইহুদিরা।ফিলিস্তিনি নাগরিকদের নিজ ভূমি থেকে উৎখাত করে তা আজ দাম্ভিক আচরণ করছে।২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস-ইসরাইল যুদ্ধে প্রায় ৭০ হাজার   বেসামরিক নাগরিক মৃত্যু বরণ করেছেন।ফিলিস্তিনের ছিটমহল গাজা উপত্যকার কোণ সেইফ জোন এখন নেই। সব যেন ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে। ফিলিস্তিনের নাগরিকগন আজ বাস্তুচ্যুত। অথচ বিশ্ব বিবেক জাতিসংঘ আজ নিশ্চুপ।

সারা বিশ্বে আজ যুদ্ধ বিরোধী স্লোগানে মুখর।যুদ্ধ নয়,শান্তি চাই।(No war,We want peace)বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে শুধু স্লোগান তুললে হবে না,বিশ্ব নেতাদের কে ইসরায়েলী আগ্রাসন বন্ধের কার্যকরি প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।বিশ্বসভ্যার অগ্রগতির এই সময়ে,আইয়ামে জাহিলিয়াতের মতো নির্লজ্জ,নির্মম কর্মকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ হোক।যুদ্ধের ভয়াবহতা নিষ্ঠুর।আজ অথবা কাল আমরা যদি এই যুদ্ধ কে বন্ধ করতে না পারি,তবে যুদ্ধ ই একদিন আমাদের নিশ্বাস বন্ধ করে দিবে।

দীর্ঘ বছর যাবৎ অব্যাহত ইসরায়েলী আগ্রাসনে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রায় নব্বই শতাংশ ঘর বাড়ী ধ্বংস করা হয়েছে। নতুন করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আইডিএফ গাজার অর্ধেকের বেশি ভূখণ্ড দখল করেছে। ফিলিস্তিনি মুক্তকামী নেতা  মুজাহিদ ইয়াহিয়া সিনওয়ার,ইসমাঈল হানিয়া, আবু উবায়দা ও লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিযবুল্লাহর শীর্ষ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ কে শহীদ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর,গাজা উপত্যাকা ও দক্ষিণ লেবাননে ৩ মিলিয়ন মানুষ কে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায়  এখনো  ফিলিস্তিনিদের  কে হত্যা করদ হচ্ছে ।ফিলিস্তিন, লেবানন,ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরান ও  আরাকান ও কাশ্মীরি মুসলমানদের উপর ক্রমাগত গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করার কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ও আই সি, আরব লীগ,জিসিসি কে নিপিড়ীত মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাই। গাজায় মানবিক সহযোগিতা প্রবেশের পাশাপাশি ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান আগ্রাসনের স্থায়ী সমাধান  করতে হবে।

সম্প্রতি আবার ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের ভয়াবহতায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষের  জীবন।একদিকে চলছে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান; অন্যদিকে ইরান ও লেবানন জুড়ে দেখা দিয়েছে চরম মানবিক বিপর্যয়।লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনে ১১ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে। গাজায় যুদ্ধ বিরতি চললে ও ইরানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সেখানে অন্তত ৫০ ফিলিস্তিনি মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে ৫ কোটি ২০ লাখ শিশুর শিক্ষা জীবন ব্যাহত হচ্ছে। ইরানের রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে,৭৬৩ টি স্কুল ৩১৬ টি হাসপাতাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ঈসরায়েলি হামলায় আক্রান্ত হয়েছে। লেবাননে ৩৬৪ টি স্কুল এখন বাস্তুহারা মানুষের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারী শুরু মার্কিন ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্বব্যাপী মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ইরানে হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাটিতে মিশাইল আক্রমণ করে তেহরান। পাল্টা পাল্টি আক্রমণে পুরে মধ্যেপ্রাচ্যে অর্থনীতি তলানিতে।ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় সারা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট প্রকট হচ্ছে। এই যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশে ও বহুমুখী সংকট তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছে। জ্বালানি সংকটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কার্যক্রম সপ্তাহে দুই দিন অনলাইন করা হয়েছে। চলমান এই সংঘাত দ্রুত না থামলে বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর