• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

অদিতা হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ২৯ এপ্রিল

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর :
মাইজদীর বহুল আলোচিত নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আবারও পিছিয়ে দেওয়ায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও রায় না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার রায় ঘোষণার নতুন তারিখ আগামী ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন কৈশোর। তিনি জানান, এদিন মামলার রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারিত থাকলেও বিচারক এজলাসে বসেই রায়ের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি (পিপি) মো. সেলিম শাহী জানান, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মাইজদী লক্ষ্মীনারায়ণপুরের একটি বাসা থেকে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা অবস্থায় রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার পর দুপুরে প্রাইভেট শেষে বাসায় ফিরে একাই ছিল অদিতা। সন্ধ্যায় তার মা বাসায় এসে মূল দরজায় তালা দেখতে পান। পরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে ঘরের আলমারিতে জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান তিনি। অন্য কক্ষে বিছানায় মেয়ের অর্ধনগ্ন দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ও নিহত ছাত্রীর সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

পরবর্তীতে রনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ঘটনাটি গোপন করতে তাকে হত্যা করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে অন্যদের অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলায় বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন রায়ের আশায় আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছিলেন অদিতার স্বজন, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষী বহু মানুষ। কিন্তু রায় ঘোষণা না হওয়ায় তাদের চোখেমুখে ভেসে ওঠে হতাশা।

স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়—পুরো এলাকার জন্য গভীর শোক ও ক্ষতের কারণ হয়ে আছে। নিহত অদিতা ছিলেন একজন শিক্ষকের মেয়ে, যার নির্মম মৃত্যু আজও নাড়া দেয় সবাইকে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

একাধিক এলাকাবাসী বলেন, “এতদিনেও বিচার শেষ না হওয়ায় আমরা হতাশ। আমরা দ্রুত রায় চাই, যাতে অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস কেউ না পায়।”
অদিতার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ের জন্য আমি ন্যায়বিচার চাই। আর কোনো মা যেন এমনভাবে তার সন্তানকে না হারায়।”

এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। রায় ঘোষণার নতুন তারিখ ঘিরে আবারও প্রত্যাশা তৈরি হলেও বিলম্বে সেই প্রত্যাশা ভেঙে পড়ায় ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর