প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

সদর উপজেলা প্রবাসফেরত বৃদ্ধার বাড়ি-দোকানে তালা, প্রাণনাশের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসফেরত বৃদ্ধার বসতবাড়ি ও দোকানঘর জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দখলচেষ্টার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মাইজদীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. দুলাল মিয়া এসব অভিযোগ করেন।
এসময় তার মেয়ে হাসিনা আক্তার পলি, ছেলে মোবারক হোসেন রনি ও নাতি আবদুল্লাহ আল নোমান মাহী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দুলাল মিয়া জানান, ১৯৯০-৯১ সালে তিনি নোয়ান্নই ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের নুরুল হকের কাছ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে সেখানে বসতবাড়ি ও দোকানঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে ৪-৫ বছর আগে বিক্রেতার ছেলেরা জমির দলিলে দাগ সংক্রান্ত ভুল দেখিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে। বর্তমানে এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে নুরুল হকের ছেলেরা স্থানীয় নোয়ান্নইা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মহি উদ্দিন’সহ রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের ছত্রছায়ায় ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ও থানা পর্যায়ে একাধিক সালিশ বৈঠকও হয়েছে।

দুলাল মিয়ার দাবি, গত ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় নুরুল হকের ছেলে মো. রুবেল, মো. মাসুদ, মো. রাশেদ ও মো. দিদার’সহ সঙ্গবদ্ধ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ  রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের ইন্দ্রনে তার বাড়ি ও দোকানঘরে হামলা চালায়। এসময় ভাড়াটিয়াদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে মালামাল লুটপাট করে এবং ঘরগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দখলের চেষ্টা করে। পরে তিনি সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীর ছেলে মোবারক হোসেন রনি বলেন, অভিযুক্ত মাদক আসক্ত সন্ত্রাসীরা আমাদের নিজস্ব সম্পত্তিতে যেতে বাধা দিচ্ছে। গেলেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করে এবং স্বপরিবারে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। সন্ত্রাসীদের কাছে আমরা অসহায়, থানায় অভিযোগ করেও কোন বিচার পাচ্চি না।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় ভুক্তভোগী পরিবার।

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর