প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

মাইজদীতে ভোক্তা অধিকার অভিযানে জরিমানা

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর :
সদর উপজেলায় মাইজদীতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে মাইজদী সুপার মার্কেট ও বড় মসজিদ রোড এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে খাদ্যে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুতকরণ এবং নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

অধিদপ্তরের নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সকাল থেকে শুরু হওয়া এ তদারকি কার্যক্রমে বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও কসমেটিকস দোকানে নজরদারি করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আছাদুল ইসলাম। অভিযানে মাইজদী সুপার মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত আলিফ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদনহীন কেওড়া জল ব্যবহার, নিম্নমানের লবণ দিয়ে খাবার প্রস্তুত, ফ্রিজে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত এবং বাসি খাবার মজুদের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বলে জানা যায়। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ বাসি ও অননুমোদিত খাদ্যপণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়। এদিকে বড় মসজিদ মার্কেট এলাকায় কসমেটিকস দোকানগুলোতেও অভিযান চালানো হয়। এ সময় জেসমিন কসমেটিকসে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর পাকিস্তানি ফর্সাকারী ক্রিম বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে একই মার্কেটের কুইন কসমেটিকস অভিযান চলাকালে অননুমোদিত পণ্য গোপনের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে তল্লাশিতে এসব পণ্য উদ্ধার করা হলে প্রতিষ্ঠানটিকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত অনুমোদনহীন প্রসাধনী সামগ্রী ধ্বংস করা হয়।

সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত সতর্ক করা হলেও অনেকে নির্দেশনা মানছেন না, ফলে বাধ্য হয়েই জরিমানা ও পণ্য ধ্বংসের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য ও প্রসাধনী পণ্যে ভেজাল ও নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে অধিদপ্তর।

অভিযানে জেলা বিশেষ টাস্কফোর্স টিম এবং জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের সহযোগিতায় পুরো কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর