প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মে, ২০২৬

সেনবাগে ধান-চাল সংগ্রহের উদ্বোধনের দিনই অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম শায়েস্তানগরী, সেনবাগ :  সেনবাগে অভ্যন্তরীণ ইরি-বোরো মৌসুমে সরকারি ধান ও চাউল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনের প্রথম দিনেই কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও ধানের ওজনে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম ন্যায্যমূল্যে ইরি-বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য (ধান ও চাউল) সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি চলে যাওয়ার পর থেকেই কৃষকদের অভিযোগ, খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ এনাম হোসেন ও কর্মচারী জসিম উদ্দিন ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতি বস্তা ধানের জন্য ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া “লেভারের বকশিশ” নামে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে ধান পরিমাপে কম ওজন দেখানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। সেনবাগ উপজেলার নজরপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, তিনি সরকারি ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রির জন্য প্রথম দিন তার উৎপাদিত ইরি-বোরো ধান সেনবাগ খাদ্য গুদামে নিয়ে আসেন। সেখানে তার কাছ থেকে প্রতি বস্তায় ৩০ টাকা করে মোট ১ হাজার ২৩০ টাকা এবং লেভার বকশিশের নামে আরও ৫০০ টাকা আদায় করা হয়।

তিনি আরও জানান, বাড়ি থেকে ধান পরিমাপ করে প্রতিটি বস্তায় নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে প্রায় সোয়া এক কেজি বেশি ধান ভর্তি করে আনেন। কিন্তু খাদ্য গুদামে ওজন করার সময় প্রতি বস্তায় সোয়া দুই কেজি করে কম দেখানো হয়। পরে তিনি চ্যালেঞ্জ করলে পুনরায় ওজন করে আগের পরিমাণই পাওয়া যায়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকার কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে কিনছে। অথচ খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে গিয়ে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও ওজনে কম দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে সেনবাগ উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ এনাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের অডিও শুনানোর পর তিনি বস্তাপ্রতি ৩০ টাকা এবং লেভার বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্নভাবে সাংবাদিককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। এমনকি ভুক্তভোগী শিক্ষককেও ফোন করে সাংবাদিককে নিউজ না করার অনুরোধ জানাতে বলেন। পরে অতিরিক্ত আদায় করা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এ বিষয়ে সেনবাগ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আহমদ হোসেন মজুমদার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে জানানো হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “আমাদের দায়িত্ব কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা। সেই তালিকা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পুরো কার্যক্রম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিটর করেন।” এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তিনি দেখছেন।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ইরি-বোরো ধান ৩৬ টাকা দরে সংগ্রহ করছে। সেনবাগ উপজেলায় এ বছর ৯২১ মেট্রিক টন ধান, ২ হাজার ৯১৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৬০৩ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উপজেলার ১ থেকে ৯ নম্বর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ধান সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আহমদ হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম। এছাড়াও খাদ্য বিভাগ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর