
উপজেলা প্রতিনিধি, সদর :
নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। শয্যা সংকট তীব্র হওয়ায় শিশু বিভাগের অনেক রোগীকে বারান্দা ও সিঁড়ির পাশেও চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের শিশু বিভাগের ৩য় ও ৪র্থ তলায় রোগীর ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৭১ জন এবং আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় শিগগিরই তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিশু বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মিনহাজুল আবেদিন জানান, গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে হামের রোগী বাড়ছে। ১১ মে হাসপাতালে ৪১ জন, ১০ মে ৩৮ জন, ৯ মে ১৫ জন এবং ৬ মে ১৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে, আবার চিকিৎসা শেষে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শিশু বিভাগে এক-দুজন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শুরু হলেও মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালটিতে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, “হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইসোলেশন ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
আপনার মতামত লিখুন :