• ঢাকা
  • শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৫ জুন, ২০২৬

৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ-এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবির তথ্য ফাঁসের জেরে এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর এনসিপির নেতাকর্মীদের দিকে।

ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার (২৯) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল-এর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামে গাফফারের পৈতৃক বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল সাগরিয়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।

আব্দুল গাফফার অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী-কে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং এ জন্য ৩ কোটি টাকা দাবি করেন। তিনি বিষয়টির বিরোধিতা করেছিলেন বলেও দাবি করেন।

গাফফার আরও বলেন, এ তথ্য তিনি বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন-কে জানান। পরে রাশেদ খাঁন এ বিষয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে সেটি তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করেন। এরপর থেকেই হান্নান মাসউদের অনুসারীরা তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি ও গালাগাল দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, ওই তথ্য প্রকাশের জের ধরেই হামলাকারীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে জানালা ও প্রধান ফটকে ভাঙচুর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। এ ঘটনায় তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, গাফফারকে কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। যারা হুমকি দিয়েছে, তারাই এ হামলার সঙ্গে জড়িত বলে তাঁদের ধারণা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল কিবরিয়া। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাননি বলেও দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, “আমার নিজের বাড়িতেই হামলা হয়েছে। আমি অন্যের বাড়িতে হামলা করব কেন? পুরো বিষয়টি সাজানো নাটক। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এসব করা হচ্ছে।”

এদিকে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে অন্ধকার দিক থেকে ছোড়া একটি ইটের টুকরা ভবনের জানালার অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেও হামলার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের শনাক্তে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর