• ঢাকা
  • বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৯ জুন, ২০২৬

আল ফারুক একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সীমানা প্রাচীর ধস, পাঠদান ব্যাহত

নুশরাত রুমু, সদর : মাইজদীতে ড্রেন নির্মাণকাজের সময় খননের কারণে আল ফারুক একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি শ্রেণীকক্ষের ফ্লোর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে মাইজদীর আল ফারুক একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আব্দুল মান্নানের ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে বিষয়টি জানার পর দৈনিক নোয়াখালীর কথা প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে দেয়াল ধসের সত্যতা দেখতে পান।

স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সড়কের পাশের ড্রেন নির্মাণকাজে প্রয়োজনের তুলনায় স্কুলের দিকের মাটি বেশি কেটে নেওয়ায় সীমানা প্রাচীরের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রাচীরের একটি বড় অংশ ধসে যায় এবং পাশের কয়েকটি শ্রেণীকক্ষের মেঝেতেও ফাটল ও ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়। বিকল্প শ্রেণীকক্ষের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আলম জানান, প্রায় সাত মাস আগে ড্রেন নির্মাণকাজের টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে পাঁচ মাস আগে কাজের প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হলেও বাকি অংশের জন্য স্কুল ভবনের পাশের মাটি কেটে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়। এতে ভবনের দেয়াল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, “পরবর্তীতে উল্টো দিক থেকে কাজ শুরু করে তাড়াহুড়ো করা হয়। পাশাপাশি ময়লা পানির চাপ ও ঠিকাদারদের অবহেলার কারণে আমাদের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পূর্ব পাশের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সর্বশেষ রোববার ( ৭ জুন ২০২৬) দক্ষিণ পাশের মধ্যবর্তী অংশসহ প্রায় পুরোটা ভেঙে পড়ে।”

তিনি আরও জানান, কাজের গতি বাড়াতে এবং দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তারা দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি।

স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু ব্যক্তির প্রভাবেও ড্রেনের অবস্থান স্কুলের সীমানা প্রাচীরের দিকে বেশি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সড়কের অন্য পাশে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও ড্রেন নির্মাণের জন্য স্কুলের দিকের মাটি বেশি কেটে নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম কারণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ড্রেন নির্মাণকাজের মূল ঠিকাদার জসিম উদ্দিন। তার সহযোগী হিসেবে সুমন ও ইকবাল কাজটি তদারকি করছেন। তবে দেয়াল ধসের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দ্রুত ও মানসম্মতভাবে ড্রেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল ও অবকাঠামো সংস্কারে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর